আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাপক ও বহুমুখী নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর সুনির্দিষ্ট অংশ হিসেবে ঢাকা রেঞ্জাধীন ১৩টি জেলার মোট ৮ হাজার ৩১টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তায় ৫১ হাজার ৪৪২ জন প্রশিক্ষিত আনসার-ভিডিপি সদস্যকে মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা আট দিন তাঁরা মণ্ডপগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদের বিশেষ ব্রিফিংকালে এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান গনী, বিভিএম, পিভিএমএস-এর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট জেলা কমান্ড্যান্টগণ প্রতিটি পূজামণ্ডপের ঝুঁকির মাত্রা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করে সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন করেছেন। গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে আটজন এবং সাধারণ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে ছয়জন করে আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মূল লক্ষ্য হলো পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি ধর্মীয় দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত ও উৎসব উদযাপনের পুরো সময়টিতে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে ঢাকা রেঞ্জের ১৩টি জেলায় আনসার ব্যাটালিয়নের ২৯টি বিশেষ মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি স্ট্রাইকিং ফোর্স দলে বিভিন্ন পদবির ছয়জন করে চৌকস আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এই স্ট্রাইকিং ফোর্স সদস্যরা।
উক্ত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপমহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান গনী দায়িত্বরত সদস্যদের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারত্ব ও নিখাদ নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের কড়া নির্দেশ দেন। তিনি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও সাধারণ দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি। দায়িত্ব পালনে ন্যূনতম কোনো অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও অধিক গতিশীল ও যুগোপযোগী প্রযুক্তিনির্ভর করতে সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান ও রিয়েল-টাইম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়। অ্যাপে এন্ড-ইউজার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যরা যেকোনো ধরনের উসকানি, গুজব, অপপ্রচার বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার রিয়েল-টাইম তথ্য, ছবি ও ভিডিও দ্রুত আপলোড করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে অবহিত করবেন।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিং অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. হেলাল উদ্দিন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।