ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬,  ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০ অক্টোবর জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজে ইউএই-এর জাহাজডুবি: সমুদ্রে ভাসছে আইফোন ও দামি সুগন্ধি ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইনের পরিকল্পনা: মন্ত্রী পূজার আলপনা না বিপজ্জনক ফাঁদ? ফ্লাইওভারে বাইক চলাচল বন্ধ জয়দেবপুরে আসামি ছিনাতে পুলিশ ফাঁড়িতে সশস্ত্র হামলা, আহত ২ দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ঢাকা বিভাগে ৫১ হাজার ৪৪২ আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন আধুনিক বাংলা সুরের রূপকার হাবিব ওয়াহিদের জন্মদিন আজ নাইজেরিয়ান ফুটবলারকে মারধর ক্ষুধা-দারিদ্র্যে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে পাকিস্তান ইমরান খানের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, সেনা মোতায়েন

বাসযোগ্যবাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৪:৫৭ পিএম

দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে পরিবেশ ও বন রক্ষায় সার্বিক জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের কেবল চাকুরির নির্ধারিত দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও বেশি উদ্যোগী হয়ে কাজ করার জোরালো তাগিদ দিয়েছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।


উক্ত পর্যালোচনা সভায় দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে সকল 'মাদার ট্রি' বা মা-গাছ চিহ্নিত করে সেগুলো স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সারা দেশে কেবল চারা রোপণ করেই দায়িত্ব শেষ না করে নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা, রোপণকৃত গাছ বেঁচে আছে কি না তা নিজস্ব লোক পাঠিয়ে মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়নের পরিধি বিস্তারে কার্যকর উপায় বের করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।


সভায় নগর জীবন ও প্রকৃতির সমন্বয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, শহরের মানুষের প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ ক্রমশ কমে আসছে, তাই এ ধরনের বিনোদন ও উন্মুক্ত স্থান বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বাসাবাড়ির ছাদবাগান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাগানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ভবনে সবুজের সমারোহ তৈরিতে জনগণকে ধারাবাহিকভাবে উৎসাহিত করার ওপর জোর দেন তিনি।


রাজধানীর মারাত্মক বায়ুদূষণ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বহু বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষ স্থানে উঠে আসছে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে পুরো দেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হতে সমাজের প্রতিটি মানুষকে নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসতে হবে।


মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, অর্পিত প্রশাসনিক দায়িত্ব ৯টা-৫টা পালন করে থেমে গেলে চলবে না। সৃষ্টিকর্তা দেশের মানুষের জন্য কাজ করার যে দুর্লভ সুযোগ দিয়েছেন, তার সঠিক ব্যবহার করে নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত কিছু করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। পরিবেশ ধ্বংস হলে আগামী প্রজন্ম মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ আমাদের সন্তানদের এই দেশেই বসবাস করতে হবে।


দেশের জন্য ২৫ কোটি গাছ লাগানোর বিশাল পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে পারলে এর সুফল ভোগ করবে দেশের সব মানুষ। যৌথভাবে সবাই এগিয়ে এলে যেকোনো কঠিন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব। এ সময় সিদ্ধান্ত হয়, অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে বাড়তি উদ্যোগ নিতে হবে।


উক্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খান উপস্থিত ছিলেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর