ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন মানহানির মামলা দায়ের করেছেন দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের সাবেক প্রধান রোনেন বার।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের আকস্মিক ও ভয়াবহ হামলার দায় নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন এখন প্রচণ্ড উত্তপ্ত। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি মিত্র দেশের শীর্ষ নেতারা হামাসের হামলার বিষয়ে ‘আগাম সতর্কতা দিয়েছিলেন’ এবং নেতানিয়াহু সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন—এমন তথ্য সংবাদমাধ্যমে বারবার প্রকাশ্যে আসছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা প্রতিটি অভিযোগই শুরু থেকে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। উল্টো তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেন, হামলার দিন ভোরে শিন বেতের তৎকালীন প্রধান রোনেন বার কিংবা শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা তাঁকে ফোন করে সময়মতো ঘুম থেকে জাগালে এই হামলা সহজেই ঠেকানো সম্ভব হতো।
নেতানিয়াহুর এই বিতর্কিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে তীব্র ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মানহানির মামলা করেছেন রোনেন বার। মামলায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ লাখ শেকেল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি টাকা) দাবি করা হয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া সুদীর্ঘ ১৩৪ পৃষ্ঠার নথিতে রোনেন বার প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে ‘নিজেকে বাঁচাতে অবিরাম মিথ্যা বলার’ গুরুতর অভিযোগ এনেছেন।
মামলার নথিতে রোনেন বার উল্লেখ করেন, ৭ অক্টোবরের ভয়াবহ ব্যর্থতায় হামাসের হামলার জন্য তাঁকে এককভাবে অপরাধী হিসেবে চিত্রায়িত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত মানহানিকর। নিজের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও বিশাল রাজনৈতিক দায় থেকে দেশের জনমানুষের আলোচনা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতেই নেতানিয়াহু মনগড়া ও মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছেন।
সাবেক এই গোয়েন্দাপ্রধান দাবি করেন, নেতানিয়াহু নিজেও ভালোভাবেই জানেন যে এই অভিযোগ সত্য নয়। বরং ওই ভয়াবহ ঘটনার জন্য নেতানিয়াহুর বিগত কয়েক বছর ধরে অনুসৃত ভুল ও ব্যর্থ নীতিই মূলত দায়ী। তাঁর ওই নীতিমালার কারণেই গাজায় বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের হুমকি বহুগুণ বেড়েছিল।
উল্লেখ্য, হামাসের প্রাণঘাতী হামলার প্রায় দুই বছর পর ২০২৫ সালের জুন মাসে শিন বেতের প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন রোনেন বার। গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে নিজের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায় স্বীকার করতেই তিনি পদ সরে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ৭ অক্টোবরের মূল ঘটনার বহু আগেই হামাস-সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য বড় ধরনের হুমকি সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে সরাসরি সতর্ক করেছিলেন তিনি। সূত্র: এএফপি