বিশ্ব
ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত ও আবেগময় অধ্যায়ের
নাম 'মেসি-পরবর্তী যুগ'। বিশ্বজয়ী মহাতারকা
লিওনেল মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুট জোড়া তুলে রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই আলবিসেলেস্তে
সমর্থকদের মধ্যে নতুন শঙ্কা ও প্রত্যাশার দোলাচল
শুরু হয়েছে। অধিনায়ক ও সেরা তারকাকে
ছাড়া মাঠে আর্জেন্টিনার সেই নতুন যুগের বাস্তব যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে আগামী নভেম্বরের ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার মাধ্যমে। দীর্ঘদিনের আস্থা ও জয়ের নায়ককে
ছাড়া দল পুনর্গঠনের কঠিন
ও চ্যালেঞ্জিং মিশনে নামছেন মাস্টারমাইন্ড কোচ লিওনেল স্কালোনি।
চলতি
মাসেই আন্তর্জাতিক বিরতিতে আফ্রিকার দেশ বেনিনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার হয়ে জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলে ফেলেন মেসি। একই স্মরণীয় ম্যাচে জাতীয় দলকে চিরতরে বিদায় জানান রক্ষণভাগের অভিজ্ঞ সেনানি নিকোলাস ওতামেন্দিও। এরপর থেকে সবার চোখ ছিল নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কারা হতে যাচ্ছে। ভক্ত ও ফুটবল প্রেমীদের
সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে।
ঘোষিত
সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ নভেম্বর ঘরের
মাঠ বুয়েনস এইরেসে ঐতিহ্যবাহী ‘রিও দে লা প্লাতা’
ডার্বিতে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এরপর মাত্র তিন দিনের সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে ১৭ নভেম্বর কর্দোবায়
দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা মুখোমুখি হবে কোস্টারিকার।
যদিও
উরুগুয়ের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচের আনুষ্ঠানিক ভেন্যু এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে স্থানীয় প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যমগুলোর নিশ্চিত তথ্যমতে বিখ্যাত বোকা জুনিয়র্সের ঐতিহাসিক মাঠ 'লা বোমবোনেরা'য়
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। যদি সত্যি তা-ই হয়,
তবে দীর্ঘ তিন বছর পর আবারও এই
স্মরণীয় মাঠে খেলতে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। কাকতালীয়ভাবে, ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর বিশ্বকাপ
বাছাইয়ে এই একই মাঠে
উরুগুয়ের কাছে ২–০ গোলে
হেরেছিল স্কালোনির দল, যা টানা ১৪
ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর আর্জেন্টিনার প্রথম
হার এবং বিশ্বকাপ জয়ের পর স্কালোনির অধীনে
প্রথম পরাজয় ছিল। এবার সেই একই মাঠ ও পরিচিত প্রতিপক্ষের
বিপক্ষে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে নামবে
দল।
অন্যদিকে
কর্দোবায় কোস্টারিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে নিশ্চিত করা হচ্ছে মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামকে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা অর্জন করা এই মাঠে স্কালোনির
দল তাদের সাম্প্রতিক খেলায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে।
চলতি
বছরের জন্য এটিই ফিফার শেষ আন্তর্জাতিক উইন্ডো ও সূচি। সবচেয়ে
বড় চমক হলো, লিওনেল মেসির ঐতিহাসিক অনুপস্থিতিতে জাতীয় দলের নতুন অধিনায়কের আর্মব্যান্ড বাঁধতে দেখা যাবে বিশ্বস্ত ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে। তবে মেসির বিদায়ের পর শূন্য হওয়া
সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ১০ নম্বর জার্সির
নতুন যোগ্য দাবিদার কে হবেন—তা
নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চায় না আর্জেন্টিনা ফুটবল
দলের থিঙ্কট্যাঙ্ক ও টিম ম্যানেজমেন্ট।
২০২৭ সালের মার্চে শুরু হতে যাওয়া পরবর্তী বিশ্বকাপের আঞ্চলিক বাছাইপর্বের আগে নভেম্বরের এই দুটি প্রীতি
ম্যাচকে স্কোয়াডের গভীরতা পরখ ও তরুণদের বাজিয়ে
দেখার সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন কোচ স্কালোনি। উল্লেখ্য, আয়োজক দেশ হিসেবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অংশগ্রহণ আগে থেকেই নিশ্চিত হয়ে আছে।