ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

অতীতের ব্যর্থতায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে গিয়েছিল: তিতুমীর


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৬:০২ পিএম

সরকারের সুদূরপ্রসারী ও জনকল্যাণমুখী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জাদুকরী ছোঁয়ায় দেশের সার্বিক দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে ৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে বলে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিগত দিনের ভুল নীতি ও প্রশাসনিক অবহেলার কারণে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে যে ধাক্কা লেগেছিল, বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে বলে তিনি জানান।


গত সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর আধুনিক ‘ইএসজি প্ল্যাটফর্ম’-এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাব্যঞ্জক তথ্য তুলে ধরেন। পরিকল্পনা উপদেষ্টা অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বিগত সরকারের সময় কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের চরম অভাবেই দেশের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ বাধ্য হয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গিয়েছিল। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময়োপযোগী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণের ফলে সেই পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটছে।


বিগত জুলাই গণআন্দোলন পর্যন্ত দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, দেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজের একটি বিরাট অংশ দীর্ঘদিন ধরে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। বিশেষ করে প্রায় ৪০ শতাংশ তরুণ জনগোষ্ঠী কোনো ধরনের কর্মসংস্থান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কিংবা পেশাগত প্রশিক্ষণের বাইরে জীবন কাটাচ্ছিল। যার ফলে ২০০৮-০৯ সালের পর থেকে এ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও সংস্কারমুখী আন্দোলনে তরুণ সমাজ এবং নারীরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য হারে অংশ নিয়েছিল।


বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গত ৮ মাসের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় নানা প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ভঙ্গুর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান জ্বালানি সংকট দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। এর ফলে জ্বালানি আমদানি ও অন্যান্য জরুরি খাতে সরকারকে গত ৮ মাসে অতিরিক্ত ৪ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাড়তি ব্যয় করতে হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এক বড় ধরনের বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।


তবে দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল রাখতে এবং বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করতে অদূর ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণের সুদহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে বলে আশ্বস্ত করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশে নতুন বিনিয়োগের ধারা ত্বরান্বিত করা এবং ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। পাশাপাশি, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সার্বিক প্রস্তুতি জোরদার করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলে অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান। প্রয়োজনীয় এই অতিরিক্ত সময় পাওয়া গেলে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও সহজ হবে এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর