ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,  ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইশরাক কাজটা ভালোই করেছে, তবে অস্ত্র হাতে নেওয়া ঠিক হয়নি: স্পিকার গণপূর্ত থেকে রাজউক: ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে শত কোটি টাকার ঘুস বাণিজ্য পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার পয়সা দিচ্ছে, দেশের ভেতর অস্থিরতার চেষ্টা করছে আরেক পক্ষ: প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ তৈরি করব, পানির হিস্যা আদায় করা হবে: প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিত ও নিরাপত্তাঝুঁকি: তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে সৌদি যুবরাজ ৬৭৮ কোটি টাকার অবৈধ স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান: ১ দিনের রিমান্ডে দিলীপ আগরওয়ালা রাজশাহীতে আখচাষীদের ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরের স্টোর ভবনে অস্বাভাবিক ধোঁয়া আজ থেকে টানা ৫ দিন বন্ধ দেশের সব ব্যাংক ও শেয়ারবাজার কলম্বিয়ায় অবৈধ সোনার খনি ধসে নিহত ১৪

সৌদি আরবে ১০ মাসে ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৯:৩৫ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবে চলতি ২০২৬ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উচ্চ হার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হত্যা, গুরুতর মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধে দেশটিতে কঠোর হাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা অব্যাহত রয়েছে।

 

বার্তা সংস্থা এএফপির সরকারি ঘোষণাভিত্তিক সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলতি বছরে সৌদি আরবে মোট ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর ঠিক পরদিন ১৮ অক্টোবর আরও পাঁচজন সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আনুষ্ঠানিক খবর প্রকাশিত হয়। এছাড়া এই পরিসংখ্যানের মধ্যে দু’জন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা প্রবাসী ও স্বজনদের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

 

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই দীর্ঘ তালিকার সবচেয়ে বড় অংশটিজুড়ে রয়েছে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ। ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস (ইএসওএইচআর)-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, বছরের প্রথমার্ধেই দেশটিতে মোট ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। এর মধ্যে কেবল মাদক সংক্রান্ত অপরাধেই ৭ জন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

 

এছাড়া নির্দিষ্ট হত্যা মামলায় ২৫ জন এবং হত্যাজনিত কারণ নেই এমন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট অপরাধে ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অর্থাৎ, প্রথম ছয় মাসে কার্যকর হওয়া মোট মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ৬৬ শতাংশই সংঘটিত হয়েছিল মাদক সংক্রান্ত অপরাধের কারণে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫৯ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৪৯ জন সৌদি নাগরিক ছিলেন। এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

 

সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থা মূলত শরিয়াহভিত্তিক বিধান এবং বিভিন্ন লিখিত আইন ও রাজকীয় আদেশের সমন্বয়ে অত্যন্ত কঠোরভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে। অপরাধের সুনির্দিষ্ট ধরন, প্রাপ্ত প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য আইনি বিধানের ওপর আসামির চূড়ান্ত শাস্তি নির্ভর করায় সব অপরাধের ক্ষেত্রে অভিন্ন শাস্তি প্রযোজ্য হয় না। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সুনির্দিষ্টভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মাদক পাচার করে সৌদি ভূখণ্ডে প্রবেশ করানো এবং বিদেশ থেকে মাদক এনে তা বাজারে বিতরণের মতো গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

 

 তবে মাদক বিক্রির ক্ষেত্রে প্রথমবার অপরাধের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড, বড় অঙ্কের জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তির বিধান থাকলেও বারবার একই অপরাধ করলে শাস্তি আরও কঠোর হয়ে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডে গড়ায়। অন্যদিকে, ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে ‘কিসাস’ বা প্রাণের বদলে প্রাণ নেওয়ার বিধান প্রযোজ্য হয়, যেখানে নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীরা আইনি শর্ত মেনে ক্ষমা করলে বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করলে মামলার পরিণতি পরিবর্তিত হতে পারে। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সরাসরি সশস্ত্র হামলা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সহায়তার মতো গুরুতর রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়ে থাকে।

 

মৃত্যুদণ্ডের এই ব্যাপক ও বহুল ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র সমালোচনা ও আপত্তি জানিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার এই বিধান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সংস্থাটি সব ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রেই মৃত্যুদণ্ড সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে।

 

 ইএসওএইচআরের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বছরের প্রথমার্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১০৮ জনের মধ্যে ৮৩ জনের বিরুদ্ধেই ইচ্ছাকৃত হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল না, যা বিচার প্রক্রিয়ায় এই কঠোর শাস্তির প্রয়োগের পরিধি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দেয়। তবে এসকল সমালোচনার বিপরীতে সৌদি কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও যুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশটির সরকার বরাবরই মৃত্যুদণ্ডকে দেশের সাধারণ জনগণের শৃঙ্খলা ও কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার একটি অপরিহার্য উপায় হিসেবে দেখে আসছে। এএফপির প্রতিবেদনেও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সৌদি সরকারের দাবি অনুযায়ী আদালতে সব আইনি প্রক্রিয়া এবং আপিলের সকল সুযোগ নিঃশেষ হওয়ার পরই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই মৃত্যুদণ্ডগুলো কার্যকর করা হয়ে থাকে।  সূত্র: এএফপি

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর