উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 40
শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে যাওয়া ও পানির সংকট চিরতরে দূর করতে দেশের দুটি বৃহৎ ও প্রধান নদী পদ্মা এবং তিস্তায় বিশাল ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার প্রয়োজনে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগরীর ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাজশাহীর মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদী আজ শুকিয়ে যাচ্ছে এবং উজানের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেই জন্যই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, দেশের দুটি বৃহৎ নদী—উত্তরাঞ্চলের তিস্তা এবং রাজশাহীর পদ্মা নদীতে আমরা বড় ধরনের ব্যারাজ নির্মাণ করব, যাতে স্থায়ীভাবে পানির সংকট দূর করা যায়। আর আন্তর্জাতিকভাবে যেসব শক্তি পানির সংকট তৈরি করেছে, তাদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনে বাংলাদেশের মানুষের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে যতদূর যাওয়া প্রয়োজন আমরা যাব। ইনশাআল্লাহ আমরা পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের নির্মাণকাজ খুব দ্রুত শুরু করব এবং তা সফলভাবে শেষও করব।”
কৃষক ও কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে কৃষক বাঁচলেই দেশের মূল কৃষি বাঁচবে। বিএনপি সরকার গঠন করার মাত্র সাত দিনের মাথায় পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করে দিয়েছিল। কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে এবার ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষি কার্ড’ চালুর কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, চলতি বছরেই দেশের ৪০ লাখ প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভূমিহীন নারী-পুরুষ কৃষকের হাতে এই বিশেষ কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে বছরে অন্তত একটি ফসলের সার, বীজ ও কীটনাশক বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে সরবরাহ করা হবে, যা দিয়ে সহজে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ ও ক্রপ ইন্স্যুরেন্স বা ফসলের বীমা করা যাবে। এছাড়া দেশের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক রাখতে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খননের বৃহৎ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে গত আট মাসেই প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্যসেবাকে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ১৩০০ থেকে বাড়িয়ে ২৫০০-এ উন্নীত করা হবে। এছাড়া দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ শয্যায় রূপান্তরিত করা হবে, যাতে গ্রামের মানুষকে সামান্য চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে ছুটতে না হয়।
বক্তব্য শেষে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানা চালু, শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দান এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অথচ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে ও সরকারের এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপগুলোকে বাধাগ্রস্ত করতে নির্দিষ্ট কিছু দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা দেশের স্বার্থে মেনে নেওয়া যায় না।