শারদীয়
দুর্গোৎসবের সম্প্রীতির আবহ ও সাধারণ মানুষের
বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের মাঝে সব ধর্মের মানুষকে
সাথে নিয়ে এক বৈষম্যহীন, ঐক্যবদ্ধ
ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (২০
অক্টোবর) সকালে সৈয়দপুর থেকে সড়কপথে রংপুর যাওয়ার পথে পাগলাপীর এলাকায় রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে
দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার উৎসুক জনতার উদ্দেশে এক প্রাণবন্ত শুভেচ্ছা
বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত
করেন।
জনস্রোতের
ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ধর্ম-বর্ণ কিংবা কোনো প্রকার ভেদাভেদ নয়, বরং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত মেধা, শ্রম ও কঠোর পরিশ্রমের
মাধ্যমেই গড়ে উঠবে আমাদের সবার প্রত্যাশিত স্বপ্নের বাংলাদেশ।
উপস্থিত
প্রকাণ্ড জনসমাবেশের উদ্দেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন যে, এটি একক কোনো গোষ্ঠীর দেশ নয়; বরং মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ এ
দেশে বসবাসকারী প্রতিটি ধর্মের মানুষের যৌথ অধিকারের ভূখণ্ড। তিনি বলেন, বিগত সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের আপামর জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে।
জনরায়ের
সেই দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই বর্তমান সরকার দেশের খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক ও সাধারণ শ্রমজীবীদের
পাশে এসে দাঁড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক
নানা সূচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি তুলে ধরেন যে, প্রান্তিক চাষীদের সুবিধার্থে ১০ হাজার টাকা
পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সাধারণ
মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সাহায্য সহজ করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড
ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সমাজের ধর্মীয় সেবকদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্যও নিয়মিত সরকারি ভাতার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এভাবেই দেশের প্রতিটি খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে সরকার নিরলস কাজ করছে।
চলমান
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী সমাজকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যেভাবে সব ধর্মের মানুষ
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রক্ত দিয়ে এ দেশকে স্বাধীন
করেছিলেন, ঠিক একইভাবে স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশের সার্বিক
পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নতিতেও
সব ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। দেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—আমরা সবাই এই মাটির সন্তান
এবং সমান অংশীদার। তাই সব বিভেদ ভুলে
সম্মিলিত ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়
একটি মানবিক ও সুন্দর বাংলাদেশ
গড়ে তোলাই এই মুহূর্তে পুরো
জাতির প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।