রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৩৯ হাজার আখচাষীর জীবনমান উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদনে উৎসাহ জোগাতে ১২ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ঐতিহাসিক রাজশাহী মহানগরীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য জনসভা ও প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারের বোতাম টিপে এই সরকারি অনুদানের অর্থ সংশ্লিষ্ট চাষীদের নিজ নিজ মোবাইল অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “এখন আমি কম্পিউটারের একটি বিশেষ বোতামে চাপ দেব। এই চাপ দেওয়ার সাথে সাথেই ইনশাআল্লাহ মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আমাদের পরিশ্রমী আখচাষী ভাই-বোনদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এই সহায়তার অর্থ পৌঁছে যাবে।” ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বোতাম টেপার সাথে সাথেই জনসভাস্থলে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করে তীব্র আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এই প্রণোদনার মাধ্যমে অঞ্চলের মোট ৩৮ হাজার ৯৭০ জন নিবন্ধিত আখচাষী সরাসরি আর্থিক সহায়তা লাভ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন যে, কৃষকদের এই আর্থিক সহযোগিতা তাদের আখ চাষ ও উৎপাদনে যুগান্তকারী সহায়তা জোগাবে। অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে প্রতীকী হিসেবে ১৫ জন অসচ্ছল ও পরিশ্রমী আখচাষীর হাতে সম্মানসূচক চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। চেক গ্রহণকারী এই চাষীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আবু সাঈদ চান, আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মন্ডল, এমাজ উদ্দিন, মো. কাহার, গোলাম রাব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরান্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রীমা খাতুন এবং রফিকুল ইসলাম।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বিশাল জনসভায় রাজশাহী জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ও ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষদের ব্যাপক উপস্থিতি এই সমাবেশে এক অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলা তৈরি করেছিল। বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে এসে পৌঁছালে চারদিক মুখরিত স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জনসভা শেষে নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাজশাহীর ঐতিহাসিক ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী, যেখানে তিনি স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন। রাজশাহী অঞ্চলের সকল কর্মসূচি সাফল্যের সাথে শেষ করে প্রধানমন্ত্রী পরবর্তীতে চট্টগ্রামের উদ্দেশে বিমানযোগে রওনা হন।