ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,  ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইশরাক কাজটা ভালোই করেছে, তবে অস্ত্র হাতে নেওয়া ঠিক হয়নি: স্পিকার গণপূর্ত থেকে রাজউক: ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে শত কোটি টাকার ঘুস বাণিজ্য পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার পয়সা দিচ্ছে, দেশের ভেতর অস্থিরতার চেষ্টা করছে আরেক পক্ষ: প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ তৈরি করব, পানির হিস্যা আদায় করা হবে: প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিত ও নিরাপত্তাঝুঁকি: তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে সৌদি যুবরাজ ৬৭৮ কোটি টাকার অবৈধ স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান: ১ দিনের রিমান্ডে দিলীপ আগরওয়ালা রাজশাহীতে আখচাষীদের ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরের স্টোর ভবনে অস্বাভাবিক ধোঁয়া আজ থেকে টানা ৫ দিন বন্ধ দেশের সব ব্যাংক ও শেয়ারবাজার কলম্বিয়ায় অবৈধ সোনার খনি ধসে নিহত ১৪

২৭ অক্টোবর তারেক-তাকাইচি বৈঠক, সই হতে পারে ৫-৬ এমওইউ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৯:৪০ এএম

কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করার লক্ষ্য নিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বিশেষ আমন্ত্রণে চারদিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরের মূল আকর্ষণ হিসেবে আগামী ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

 

অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রায় ৫ থেকে ৬টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের কথা হচ্ছে না, তবে এই সফর দুই দেশের বিদ্যমান ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’কে এক নতুন মাত্রা দেবে। ঐতিহ্যগত উন্নয়ন সহায়তা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার বাইরেও প্রধানমন্ত্রীর এই টোকিও সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বিস্তৃত ভূ-রাজনৈতিক বার্তা বহন করবে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে এবার যৌথ ঘোষণায় নতুন কিছু কূটনৈতিক শব্দ যুক্ত করার বিষয়েও ঐকমত্যে পৌঁছেছে ঢাকা ও টোকিও।

 

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই সফরে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে সৃষ্টি হওয়া অভূতপূর্ব চাপ মোকাবিলায় জাপানের কাছ থেকে অন্তত ২০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক সহায়তা চাইতে পারে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিভিন্ন মেগা অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানি সহায়তার অর্থায়নে সুদের হার কমানোর বিষটিকে বেশ জোর দেবে ঢাকা, কারণ সুদের হার বৃদ্ধিতে প্রকল্প ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ, পর্যটন উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানির বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে বাংলাদেশ।

 

অন্যদিকে, নতুন সরকারের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বের আওতায় সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেবে টোকিও। পাশাপাশি তাদের হালনাগাদ করা অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি) নীতির সফল বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে অন্যতম নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে পেতে চাইবে জাপান। চলতি বছরের জুনে চীন সফরের পর প্রধানমন্ত্রীর এই টোকিও সফরকে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির পরবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টোকিও সফরকালে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা ও জনশক্তি রপ্তানির সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। বর্তমানে ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগের মতো বেশ কিছু বড় প্রকল্প জাপানি সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব মেগা প্রকল্পে ঋণের সুদের হার নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে সরকার। সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, আসন্ন জাপান সফরের প্রধান অগ্রাধিকার হবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গভীর করা এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা। জাপানকে অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, বাণিজ্যিক বিকাশ ও পারস্পরিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত কথা হবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঠিক আগেই জাপানের সঙ্গে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার কপি সফরের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। আগামী বছরের ১ এপ্রিল থেকে এই চুক্তির আওতায় জাপানে নিবন্ধিত দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। গত ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত ১০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের আইনি সুরক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

এছাড়া চলতি বছরেই উভয় দেশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে। জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্যমন্ত্রী নরিকাযু সুযুকির ঢাকা সফর এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়, যা বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক ‘বিগ-বি’ ধারণার অধীনে দুই দেশের সুদৃঢ় অর্থনৈতিক সংযোগকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর