নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় অবস্থিত একটি স্থানীয় প্রিন্টিং কারখানায় হঠাৎ ভয়াবহ এক বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনা এবং এর ফলে সৃষ্ট আকস্মিক আগুনে কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের এই আকস্মিক ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ছয়জন শ্রমিক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন। খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুত তাদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়, যেখানে বর্তমানে তাদের জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ৮টা ৪ মিনিটের দিকে দগ্ধ হওয়া এই ছয়জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। কারখানায় কর্মরত অবস্থায় দগ্ধ হওয়া ছয় সৌভাগ্যবান ও দুর্ভাগ্যপীড়িত ব্যক্তি হলেন— শিবলু মিয়া (৪৫), পিয়াস (৩০), সুমন (৩০), সোরাফ (৩০), ছাদেকুর (২৫) এবং রাকিব (২৫)। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাদের উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন। কারখানার ভেতরে কীভাবে এই বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ শুরু করেছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, নরসিংদীর মাধবদী এলাকা থেকে বয়লারে দগ্ধ অবস্থায় মোট ছয়জন রোগীকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে যে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে। তিনি আরও জানান, দগ্ধদের মধ্যে শিবলু মিয়ার শরীরের ১৩ শতাংশ, পিয়াসের ৩ শতাংশ, সুমনের ৪ শতাংশ, সোরাফের ২০ শতাংশ, ছাদেকুরের ১৫ শতাংশ এবং রাকিবের শরীরের ১০ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে দগ্ধদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিবরণ দিয়ে জানানো হয়েছে যে, আঘাতের মাত্রা ভিন্ন হওয়ায় তাদের চিকিৎসাও সেভাবেই দেওয়া হচ্ছে। দগ্ধদের মধ্যে সোরাফ ও ছাদেকুরের অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এছাড়া শিবলু মিয়া ও রাকিবকে হাসপাতালের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, তুলনামূলক কম আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় পিয়াস ও সুমন নামের দুইজনকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ ঘোষণা করে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।