মাদারীপুরে এক কলেজ শিক্ষকের খামার থেকে গরু চুরি করে পালানোর সময় ৩ চোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার ভোর রাতে রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট হাজী হাসমত ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ভুক্তভোগী শ্যামল কান্তি গাইন (৫৮) একই উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের নটাখোলা গ্রামের বাসিন্দা ও গোপালগঞ্জ উলপুর এম.এইচ খান ডিগ্রি কলেজের ক্রিড়া শিক্ষক। সোমবার (১৭ মার্চ) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ খান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলার মাঝিগাতী গ্রামের আ: রহমান খন্দকারের ছেলে মো. টুটুল (২৮), ফরিদপুরের সালথা উপজেলার কার্তিবাতাই গ্রামের মুন্নু ফকিরের ছেলে ফরহাদ (১৯), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার চৌমুহনী গ্রামের ইসমাইলের ছেলে সোহেল (২৮)। এদের মধ্যে সোহেলের নামে আরো ৫টি ও টুটুলের নামে আরো ২ টি চুরি মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে শখের বসে একটি গরুর খামার করেন কদমবাড়ি ইউনিয়নের নটাখোলা গ্রামের শিক্ষক শ্যামল কান্তি গাইন। প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতেও ৬টি গরুর খামারে আটকে রেখে ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। পরে গভীর রাতে খামার থেকে বাছুরের ডাক শুনে ঘর থেকে বের হন। এক পর্যায়ে খামারে প্রবেশ করে দেখেন ৫টি গরু চুরি হয়ে গেছে। এসময় একটি ট্রাকে করে গরু নেওয়া হয়েছে জানতে পেরে বিভিন্ন স্থানে ফোন দিয়ে লোকজনকে জানান। পরবর্তীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে উঠার উদ্দেশ্যে টেকেরহাট আসলে স্থানীয়রা ট্রাকটি আটকে দেয়। (ঢাকা মেট্রো ড-১৪-৮৮০২)। পরে ৫টি গরুসহ ৩ চোরকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। এসময় ট্রাক ড্রাইভারসহ ৫ চোর পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী শিক্ষক শ্যামল কান্তি গাইন জানান, শখের বসে একটি গরুর খামার করেছি। আমি মূলত ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক। আমার মোট ৬টি গরু।
গ্রেপ্তারকৃত গরু চোর সোহেল জানান, ‘আমি এইচএসসি পাস করে চাকরির জন্য ১০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। সেই টাকা মার খাবার পর এই চুরি পেশা বেছে নিয়েছি। এর আগে দিনে চুরি করেছি। কিন্তু রাতে কখনো চুরি করি নাই। আমরা ৮ জন ছিলাম। ৫ জন পালাই গেছে। আমরা ৩ জন ধরা খাইছি।’
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, ৫টি গরুসহ ৩ চোরকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক চুরি মামলা রয়েছে।’