ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ‘বি-২’ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার সার্বিক প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। বি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপ ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপে প্রবেশ করবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২৫ অক্টোবর পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তবে এই কার্যক্রম শুরু করা সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করছে বাযেরার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সকালে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সফররত উচ্চপর্যায়ের একটি রুশ প্রতিনিধিদল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল প্রথম ইউনিটের 'ক্রিটিক্যাল পর্যায়' এবং সামগ্রিক অগ্রগতির তথ্য মন্ত্রীকে অবহিত করে। শুক্রবার রাশিয়ার দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক ও অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। সফরকালে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা এবং ফিজিক্স টেস্ট সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। সব পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি 'সি স্টেজে' প্রবেশ করবে এবং এর পর থেকে পাওয়ার স্টার্টআপের কাজ শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক অবস্থায় অত্যন্ত সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। পরবর্তীতে প্রতিটি পরীক্ষা সফল হলে ধাপে ধাপে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সেই অনুযায়ী চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। তবে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ নির্ভর করবে প্রতিটি টেস্টের সাফল্য এবং নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদনের ওপর।