ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,  ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্পিড গান ও ডোপ টেস্ট বন্ধ: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন ঠেকানো নিয়ে যা বললেন তাসনিম জারা টঙ্গীর মাদ্রাসার ঘটনা নিয়ে আজহারীর দীর্ঘ স্ট্যাটাস, সুশাসনের আহ্বান দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ৭ গুলশানে কিংফিশারে মধ্যরাতের হানা: বিপুল অবৈধ মদ জব্দ মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন উদ্বেগজনক: ৯ মাসে শিকার ১০৯ শিশু পারমাণবিক অস্ত্র পেলেই ব্যবহার করবে ইরান, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি মাথাপিছু আয়ে ভারতকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়ে ভারতকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: এলাকা ছাড়তে বহিরাগতদের কঠোর নির্দেশ

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন ঠেকানো নিয়ে যা বললেন তাসনিম জারা


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১১:৩৩ এএম

নিজের দলের নেতাদের বেলায় ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের কথা বললেও জামায়াতে ইসলামী অন্যদের বেলায় তা মানতে নারাজ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। সম্প্রতি পিরোজপুরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন ঠেকিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—বিরোধীদলে থাকতেই যারা নিজ বসতভিটায় দাফন করতে বাধা দেয়, রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা তাদের হাতে গেলে তারা কী করবেন?

 

সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ডা. তাসনিম জারা এই মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের সমাজে কারো মৃত্যু হলে দাফনকাজে পাড়ার যুবকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে। কিন্তু গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) পিরোজপুরে ৮৭ বছর বয়সী মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অমানবিক এক চিত্র দেখা গেছে।

 

তাসনিম জারা তার পোস্টে জানান, স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা মাইকে, মিছিলে ও ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ওই বৃদ্ধকে পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে না এবং তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান বা ‘গার্ড অব অনার’ দিতে দেওয়া হবে না। এমনকি পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে কবর খুঁড়লেও তা জোর করে ভরাট করে ফেলা হয়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে মৃত ব্যক্তির মেয়ে ও বোনেরাই কোদাল হাতে তুলে নিয়ে নতুন কবর খুঁড়েন এবং গভীর রাতে পুলিশি পাহারায় চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে তাকে দাফন করা হয়। জানাজা ছাড়াই এবং পরিবারের সদস্যদের গ্রামবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ না দিয়েই এই দাফন সম্পন্ন হয়।

 

নিহত মানিক পশারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার সবারই থাকতে পারে এবং তা যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালত রয়েছে উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, কিন্তু জামায়াতের নেতাকর্মীরা সেই মীমাংসা করেছেন দাফন আটকে দিয়ে। ইসলাম ও সামাজিক রীতিনীতিতে মৃত্যুর পর মানুষের হিসাব শেষ হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও জামায়াত নেতাকর্মীরা অন্য পথ বেছে নিয়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

 

তিনি আরও লেখেন, “পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে না”—এই ভাষা ব্যবহার করে তারা এমন আচরণ করেছেন যেন এই মাটির দলিল তাদের নামে লেখা। অতীতে তাদের বিরুদ্ধে ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’ স্লোগানকে অন্যায় বলে দাবি করলেও আজ সামান্য ক্ষমতা হাতে পেতেই তারা একই কায়দায় অন্যদের ওপর চড়াও হচ্ছেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করা দলটির নেতাকর্মীরা আজ নিজেরাই ঠিক করে দিতে চাইছেন কে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আর কার কবর কোথায় হবে।

 

পোস্টের শেষে ডা. তাসনিম জারা বলেন, নিজেদের নেতাদের বেলায় জামায়াত ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদার কথা বললেও অন্যদের ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি অনুপস্থিত। ভোটের আগে ও বক্তৃতায় ন্যায়বিচারের কথা বললেও একজন মৃত মানুষ ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ প্রমাণ করে যে, বিরোধীদলে থাকতেই তারা এমন স্বেচ্ছাচার চালালে রাষ্ট্রক্ষমতা পেলে পরিস্থিতি কেমন ভয়ংকর হতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর