ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তীব্র জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের নীতিগত অবস্থান স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেলে তা পাওয়ার সাথে সাথেই ব্যবহার করবে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে না দিলেও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বড় চুক্তি সইয়ের আশাও প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
রোববার (২৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা কি বড় ধরনের সংকট দেখতে চান? এটি কেবল জ্বালানিসংক্রান্ত সংকটেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভয়াবহ প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করবে। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দিলে তারা তা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করবে।" হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘র্যাপিড রেসপন্স ৪৭’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্য ও সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে মার্কিন বা যৌথ সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি জানান, "এমন সামরিক পদক্ষেপের জোর সম্ভাবনা রয়েছে।" সামরিক বলপ্রয়োগের পাশাপাশি ওয়াশিংটন যে কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রেখেছে, সে কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে "সুন্দর, বড় ও চমৎকার একটি সমঝোতা চুক্তিতে" পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। তবে এর আগেও নানা সামরিক পদক্ষেপ ও 'এপিক ফিউরি' অভিযানের ইঙ্গিত দিয়ে আসা ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হতে দেওয়া হবে না।
তা সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে চুক্তির স্থায়ীত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রকাশ্য সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, "তারা চুক্তি করতে চায়, কিন্তু মূল সমস্যা হলো তারা কি সই করা চুক্তি যথাযথভাবে মেনে চলবে?" মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মাঝে ট্রাম্পের এই বৈপরীত্যপূর্ণ মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি অকার্যকর করতে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে অনড় অবস্থান দেখালেও, এই সংকট রক্তক্ষয়ী সংঘাত নাকি সমঝোতা চুক্তির দিকে এগোবে তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।