মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সৌদির রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আকাশে ধ্বংস করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক ও বিপজ্জনক হামলায় রাজধানীজুড়ে সাময়িক আতঙ্ক ও সতর্কতা জারি করা হলেও, সামরিক বাহিনীর তৎপরতায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদির রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত গোপনে ওই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করেছিল। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের রাডার ও অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কল্যাণে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই মাঝ আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়। এর ফলে রিয়াদের জনবহুল আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির হাত থেকে সম্পূর্ণ রক্ষা পেয়েছে। এই সফল প্রতিরক্ষা অভিযানের পর সামরিক জোটে কর্মরত মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালকি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দাপ্তরিক বার্তায় পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জোটের সতর্ক অবস্থানের কথা জানান।
আক্রমণের সেই সংকটময় মুহূর্তে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও প্রাণহানি এড়াতে রিয়াদের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে নগরবাসীর জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল। ওই সময় সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের অবিলম্বে নিরাপদ ও সুরক্ষিত আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও বিপদমুক্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কাউকে ঘর থেকে বাইরে না বের হওয়ার কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। আকস্মিক এই পদক্ষেপে মুহূর্তের মধ্যে নগরবাসীর মধ্যে কিছুটা উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়লেও, নিরাপত্তা বাহিনীর পেশাদারিত্বের কারণে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।
পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিরাপদ হওয়ার পর রিয়াদের ওপর থেকে সমস্ত জরুরি সতর্কতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। বিপদের ঝুঁকি পুরোপুরি কেটে গেছে জানিয়ে সাধারণ জনগণের উদ্দেশে বিশেষ সতর্কতামূলক নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের ছবি, ভিডিওচিত্র চিত্রগ্রহণ কিংবা তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বা তথ্য আদান-প্রদান করা থেকে সবাইকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য বা ছবি প্রকাশ জননিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করতে পারে এবং এটি দেশের প্রচলিত নিরাপত্তা আইনের পরিপন্থী।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের এ ধরনের লাগাতার আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ও অস্থিরতা তৈরি করছে। গত কয়েক বছর ধরে চলা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা ও তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে বহুবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহীরা।
তবে সৌদি আরবের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুন্সিয়ানার কারণে প্রায় প্রতিটি আক্রমণই সফলভাবে ভেস্তে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলা প্রতিহত করার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় সৌদি সামরিক বাহিনী অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবুও এই ধরনের অব্যাহত সামরিক উসকানি আঞ্চলিক শান্তি ও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার পথে অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা