আইইডিসিআর কার্যালয়ে মব সৃষ্টি করে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণার মধ্যেও দেশের হাসপাতাল, ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনৈতিক কার্যালয় ও প্রশাসনিক স্তরে মব সহিংসতা থমকে নেই।
গতকাল বুধবার সকালে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালকের কক্ষে ঢুকে ৮-৯ জনের একদল লোক তাঁকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে মারধর করে। অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকির দাবি, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। ভিডিও ফুটেজেও হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। সাবেক পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে নিজ কার্যালয়ে বৈঠক করার অভিযোগ এনে তাঁর ওপর এই হামলা চালানো হয় বলে জানান ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পুরানা পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ে হামলা, সাতক্ষীরায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যা এবং রাজধানীর পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের কাজ বন্ধে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো এতে যুক্ত হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্যে মব সহিংসতার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৫৩৭টি মবের ঘটনায় ২৫৬ জন নিহত এবং ৫৭৫ জন আহত হয়েছেন। ২০২৫ সালে মবের সংখ্যা ছিল ৪২৮টি এবং ২০২৪ সালে ছিল ১৬৯টি। অন্যদিকে, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবমতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মব সহিংসতায় মারা গেছেন ১৭১ জন। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানায়, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৯৮টি মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে ১৮৭ জন নিহত হয়েছেন।
যদিও পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দাবি—সরকারের তৎপরতার কারণে আগের তুলনায় বর্তমানে মব সহিংসতার ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা অনেক কমে এসেছে।A