মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজে বিঘ্ন এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে চলতি ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে সামগ্রিক পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ 'কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক' প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলমান সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাজার আরও মারাত্মক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়বে। যদিও আগামী বছর পণ্যের দর ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমার ইঙ্গিত রয়েছে, তবে ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতির পূর্বাভাস এই স্বস্তি বিনষ্ট করতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও খাদ্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দর মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে কঠোর মুদ্রানীতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের ডেপুটি চিফ ইকোনমিস্ট আয়হান কোস জানান, বিশ্ববাজার একযোগে একাধিক বড় ধাক্কার মুখোমুখি হওয়ায় জ্বালানি খরচ ও সরবরাহ বাধার কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। এটি সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বেড়েছে এবং ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ৯২ ডলারে উন্নীত হতে পারে। তেলের চাহিদা ২.৫ শতাংশ কমলেও চলতি বছর বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ৫.২ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে, যা বিগত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন।
কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বলা হয়, কৃষ্ণসাগরীয় সংঘাতের কারণে শস্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় চলতি বছর খাদ্যের দাম ১০ শতাংশের বেশি বাড়বে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও যুদ্ধ পরিস্থিতি এক হলে খাদ্যের দাম অতিরিক্ত ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা বিশ্বজুড়ে আরও ৪ কোটির বেশি মানুষকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এছাড়া সারের দাম বাড়বে ১৪ শতাংশ।
শিল্প ও নিরাপদ বিনিয়োগ খাতেও সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে তামা, অ্যালুমিনিয়াম ও টিনের দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে, ফলে ধাতব পণ্যের দাম ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর দাম ২০২৬ সালে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।