ইসরায়েলের
নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট এগিয়ে থাকলেও
এককভাবে সরকার গঠনে কোনো জোটই
সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির ৯৩ শতাংশ ভোট
গণনা শেষে প্রকাশিত তথ্য
অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে
(ইসরায়েলি সংসদ) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি
আসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে
প্রধান দুই পক্ষই। এই
অচলাবস্থা নিরসনে এবং নতুন সরকার
গঠনে দলগুলোর সামনে এখন জটিল রাজনৈতিক
সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
নেসেটের
বর্তমান আসন বিন্যাস ও
সমীকরণ
নির্বাচন
কমিটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রধান
পক্ষগুলোর সম্ভাব্য আসন সংখ্যা নিম্নরূপ:
রাজনৈতিক
জোট ও দল সম্ভাব্য আসন সংখ্যা
নেতানিয়াহুর
ডানপন্থী-ধর্মীয় জোট (লিকুদ-২৬,
তোরাহ জুডাইজম-৭, শাস-৭,
ওতজমা ইয়েহুদিত-৭, রিলিজিয়াস জায়নিস্ট-৬)=৫৩
বিরোধী
‘পরিবর্তন’ জোট (ইয়াশার-২১,
বি'ইয়াচাদ-১২, দ্য ডেমোক্র্যাটস-৮, ইসরায়েল বেইতেনু-৭)=৪৮
আরব
দলসমূহ (জয়েন্ট লিস্ট-১২, রা'আম-৭)=১৯
সরকার
গঠনে সম্ভাব্য ৩টি সমীকরণ
১.
জাতীয় ঐক্যের সরকার (Unity Government): সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় নেতানিয়াহুর
লিকুদ পার্টি বিরোধী জোটের প্রধান দল ‘ইয়াশার’-এর
নেতা গাদি আইজেনকোটকে সাথে
নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের
সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। গুঞ্জন
রয়েছে, আইজেনকোটকে পর্যায়ক্রমিক প্রধানমন্ত্রীর (রোটেশনাল পিএম) প্রস্তাব দিয়ে অতি-অর্থোডক্স
দলগুলোকে বাদ রেখে এই
সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা চলছে, যদিও আইজেনকোট আগে
নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ না করার
অঙ্গীকার করেছিলেন।
২.
আরব দলগুলোর সমর্থনে বিরোধী জোট: দ্য ডেমোক্র্যাটস
দলের প্রধান ইয়াইর গোলান বিরোধী জোট ও আরব
দলগুলোকে একসাথে করে ৬৫ আসনের
একটি বিকল্প সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কট্টর ইহুদি
দলগুলো আরব দলগুলোর সাথে
জোট গঠনে তীব্র বিরোধী
হওয়ায় এই সমীকরণ বাস্তবায়ন
করা বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের
জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে।
৩.
পুনরায় নির্বাচন: কোনো পক্ষই যদি
নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জোট গঠনে সফল
হতে না পারে, তবে
ইসরায়েলের নিয়ম অনুযায়ী সংসদ
ভেঙে যাবে। সেক্ষেত্রে অচলাবস্থা কাটাতে দেশটিকে আবারও নতুন সাধারণ নির্বাচনের
দিকে হেঁটে যেতে হবে, যার
অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুই
কেয়ারটেকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থেকে যাবেন।