যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন শান্তিচুক্তির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কাতারের এই খসড়া প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ ‘অগ্রহণযোগ্য’।
ওই ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, কাতারের পাঠানো প্রস্তাবে এমন কিছু শর্ত বা বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা তেহরানের পক্ষে মেনে নেওয়া অসম্ভব। বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখাবে না, অথচ কাতারের প্রস্তাবে সেটিকে বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে নারাজ। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানকে অবশ্যই তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে হবে। যদিও ইরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ এবং অভ্যন্তরীণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত বলে দাবি করে আসছে।
গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) ইরানকে ওই শান্তিপ্রস্তাবের খসড়া পাঠায় কাতার। উভয়পক্ষের বিরোধ মেটাতে সাত দিনের একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়ে প্রতিদিন পারস্পরিক আস্থা অর্জনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল ওই খসড়ায়। তবে এর মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির শীর্ষ রাজনীতিকরা ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।
সম্ভাব্য এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ইসরায়েলের প্ররোচনায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কোনো সামরিক দুঃসাহসিকতা দেখানো হলে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপর ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে।