বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) আখতারুজ্জামান। দীর্ঘ দিন কারাভোগের পর অবশেষে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কারামুক্ত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। জামায়াত নেতার কারামুক্তির খবর পেয়ে সকাল থেকেই কারাগার ফটকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। কারামুক্ত হয়ে বাইরে এলে নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ও জমকালো সংবর্ধনা প্রদান করেন।
এর আগে গত রবিবার (১ নভেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ সার্বিক শুনানি শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারাকর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছালে তাকে মুক্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যা নাগাদ সৌদি আরবের মদিনা থেকে আগত একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের (বিজি-৩৩৮) যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকলে বিমানবন্দর টার্মিনালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও স্থান শান্ত করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। ওই সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ওই শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেন এবং তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া তৎকালীন বিমানমন্ত্রীকে নিয়েও তিনি নানা অশালীন মন্তব্য করেন বলে মামলায় দাবি করা হয়।
উক্ত অভিযোগের সত্যতার ভিত্তিতে গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন শনিবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে বারবার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ২০২২ সালে পঞ্চমবারের মতো তাকে বিএনপি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।