আইন ও বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায়ের সূচনা ঘটিয়ে গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক অবোধ শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি স্থানীয় মাদরাসায় নজিরবিহীন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সংশ্লিষ্ট অভিভাবক শাহজালাল রুমীকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেছেন দেশের উচ্চ আদালত হাইকোর্ট। একই সাথে প্রদত্ত আদালতের জামিনের অন্যতম কড়া ও প্রধান শর্ত হিসেবে জামিনপ্রাপ্ত শাহজালাল রুমীকে আগামী চার সপ্তাহের সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট গাজীপুর মহানগর জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণের কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার হাইকোর্টের গঠিত মূল বেঞ্চের মাননীয় বিচারপতি মো. সেলিম এবং মাননীয় বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেন। মামলার যাবতীয় অগ্রগতির এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করেন আসামি পক্ষের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন। উচ্চ আদালতে জামিন আবেদনকারী অভিযুক্ত শাহজালাল রুমীর জামিন আবেদনের পক্ষে অত্যন্ত জোরদার শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন এবং অ্যাডভোকেট এইচ এম রুহুল আমিন মোল্লা।
মামলার নথি ও আনুষ্ঠানিক বিবরণী থেকে সুস্পষ্টভাবে জানা যায়, টঙ্গী এলাকার একটি দ্বীনি মাদরাসায় সাত বছর বয়সী এক কোমলমতি শিশুকে যৌন হয়রানির একটি মারাত্মক অভিযোগের জের ধরে স্থানীয় পর্যায় থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরবর্তীতে সেই মাদরাসায় সরাসরি হামলা চালানো হয় এবং ভেতরে ব্যপক ভাঙচুর সংঘটিত হয়। এ অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংস ঘটনায় শাহজালাল রুমীকে অন্যতম অভিযুক্ত করে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ঘটনার স্পর্শকাতরতার কারণে মামলাটি দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং দেশজুড়ে গভীর আলোচনার সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে এমন আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে এবং সুনির্দিষ্ট আত্মপক্ষ সমর্থনের উদ্দেশ্যে গত ২৬ অক্টোবর উচ্চ আদালত হাইকোর্টে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আগাম জামিনের প্রার্থনা জানিয়ে আবেদন পেশ করেন অভিযুক্ত শাহজালাল রুমী। উক্ত জামিন আবেদনের ওপর মঙ্গলবার উভয়পক্ষের বিস্তারিত শুনানি গ্রহণ ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন এবং এই অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নির্দেশ জারি করেন। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপের ব্যাপারে আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন পরিষ্কার করে জানান যে, আদালতের লিখিত আদেশের কপি পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করার পরেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।