দেশের সার্বিক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে আগামী ডিসেম্বরে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটে থাকলে তার সমুদয় দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার ওপরই বর্তাবে বলে সোচ্চার মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিপ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার বিকেলে পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা এনসিপি আয়োজিত সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভার পূর্বে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে তিনি দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে এসব তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য পেশ করেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, সাধারণ দৃষ্টিতে আগামী ডিসেম্বরে রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনো বিশেষ ঘটনা বা অঘটন ঘটার সম্ভাবনা নেই। তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের ক্রমাগত চরম ব্যর্থতা এবং তাদের নিম্নমুখী পারফরম্যান্সের কারণে জনগণের মধ্যে সরকার সম্পর্কে আস্থার চরম সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডিসেম্বরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে, সেটি কেবল সরকারের অদক্ষতা, নীতিগত ব্যর্থতা এবং একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সাথে তাদের গোপন সমঝোতার ফলেই সংঘটিত হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই ধরণের যেকোনো অশুভ তৎপরতা ও অস্থিতিশীলতাকে রাজপথে অবস্থান নিয়ে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে প্রতিহত করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বর্তমান সরকারের জনবিরোধী নীতি, রাজনৈতিক নৈরাজ্য ও অর্থনৈতিক ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিপ হুইপ জানান যে, দেশের আপামর সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় এনসিপি একের পর এক ধারাবাহিক প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। তিনি দেশের সাধারণ জনগণকে অধিকার আদায়ের স্বার্থে রাজপথে নেমে আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজপথে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমেই এই দায়িত্বজ্ঞানহীন সরকারকে উপযুক্ত জবাব দিতে হবে এবং অন্যায় সিদ্ধান্তের মুখোমুখি দাঁড় করাতে এর চেয়ে বড় কোনো পথ খোলা নেই।
সাম্প্রতিক গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান অসন্তোষ ও রাজপথের আন্দোলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ও ন্যায্য। তবে সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও দূরদর্শী পরিকল্পনার মারাত্মক অভাবের কারণেই আজকে শিল্পাঞ্চলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকদের এই সুনির্দিষ্ট ও ন্যায়সংগত আন্দোলনকে কেবল চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। যদি শ্রমজীবীদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে কোনো সুযোগসন্ধানী ফ্যাসিবাদী চক্র বা দুষ্কৃতকারী অনুপ্রবেশ করে সহিংসতা তৈরি করে থাকে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সেই চরম ব্যর্থতার দায়ভার পুরোপুরি সরকারকেই বহন করতে হবে। মতবিনিময় সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির অন্যান্য কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় সর্বস্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।