দেশের পোশাক খাত ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে চলমান তীব্র অস্থিরতা ও অসন্তোষের পেছনে বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাহীনতা ও অপরিপক্ব নীতি সিদ্ধান্তকে সরাসরি দায়ী করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদের প্রভাবশালী সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। শিল্পাঞ্চলের বিরাজমান সার্বিক সংকট কাটিয়ে তুলতে অবিলম্বে সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের সাথে সরাসরি ত্রিপক্ষীয় কার্যকর আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার চলমান মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন, শিল্প রক্ষা এবং মালিক ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় শ্রমিক শক্তি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান সামগ্রিক বাস্তবতা তুলে ধরে হান্নান মাসউদ বলেন, তারা কেবল কোনো বিশেষ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে নয়, বরং এ দেশের সর্বস্তরের মেহনতি মানুষ ও পুরো বাংলাদেশের অস্তিত্বের পক্ষে কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, পোশাক শিল্প, সার কারখানা ও চাল উৎপাদনসহ প্রতিটি স্পর্শকাতর খাতে সরকারের অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত নীতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বারবার গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে কারখানাগুলোতে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কাজের অর্ডার কমে যাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান চরম সংকটের মুখে পড়েছে। বাজার মূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও পরিবহন খরচ বিবেচনায় নিয়ে শ্রমিকদের যুক্তিযুক্ত জীবনধারণের ন্যূনতম বেতন স্কেল নতুন করে নির্ধারণের জোরালো দাবি জানান তিনি।
শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে এই এনসিপি নেতা বলেন, সাধারণ শ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট আন্দোলন ও দাবির মধ্যে বহিরাগত সন্ত্রাসী চক্রের অনুপ্রবেশের যে কথা বলা হচ্ছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সেই অপশক্তিগুলো বিভিন্ন শিল্প এলাকায় অবস্থান নিতে পারছে, তার স্পষ্ট জবাব সরকারকে দিতে হবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃতপক্ষে নিরীহ শ্রমিকদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সুরক্ষিত রাখতে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। শিল্পের আন্তর্জাতিক অর্ডার অন্য দেশে চলে যাওয়ার পূর্বাভাসের বিষয়ে তিনি যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, পরিবহন খাতের অব্যাহত চাঁদা, কাস্টমস ও বন্দরের ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করতে পারলে উৎপাদন খরচ এমনিতেই অনেক কমে আসবে, যা শ্রমিকদের ন্যায়সংগত বেতন বাড়াতে সহায়তা করবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিতে লাঠিচার্জ ও সহিংসতা বন্ধ করে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে শিল্প খাতে স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।