শিশুরাই
দেশের আগামীদিনের মূল অ্যাম্বাসেডর ও
মালিক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
একটি
শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের মেধা,
প্রতিভা এবং সৃজনশীলতার বিকাশ
অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে
জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ লক্ষ্য
অর্জনে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার
ওপর নির্ভর করলেই চলবে না; বরং
এর পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি এবং বিদেশি ভাষা
শিক্ষায় সমানভাবে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার
(৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন
কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক
সুরে বলেন, “এই বাংলাদেশ তোমাদের
গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি
করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর
বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে
একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের
মালিক।”
প্রধানমন্ত্রী
তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, শুধু পড়াশোনা করে
ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট বা আইনজীবী হওয়ার
পাশাপাশি খেলাধুলা, আর্ট ও কালচারও
গভীরভাবে জানতে হবে। কারণ বিশ্বজয়ের
জন্য শুধুমাত্র সাধারণ শিক্ষা যথেষ্ট নয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ
ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীদের নান্দনিক পরিবেশনার প্রশংসা করে তিনি বলেন,
শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে তারা সবক্ষেত্রেই সমানভাবে
পারদর্শী হতে পারে।
‘নতুন
কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরে
সারা দেশ থেকে ১৬
লাখের বেশি শিশু-কিশোর
অনলাইনে অংশ নিয়েছে উল্লেখ
করে সরকারপ্রধান বলেন, দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই।
এখন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ
ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
সরকার এমন একটি সমাজব্যবস্থা
গড়ে তুলতে চায় যেখানে শিশুরা
নির্বিঘ্নে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে
নিজেদের যুক্ত রাখতে পারবে। এ ছাড়া বাংলা
ও ইংরেজির পাশাপাশি শিশুদের তৃতীয় আরেকটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ
দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এর
আগে প্রধানমন্ত্রী খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছে
বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে
এবং অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক
উদ্বোধন করেন। এ সময় তার
সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং জাতীয়
সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ
সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী খুলনা
সার্কিট হাউস মাঠ পরিদর্শন
করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন
এবং বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। ১০
থেকে ১৪ বছর বয়সি
শিশু-কিশোরদের নিয়ে আয়োজিত এবারের
প্রতিযোগিতায় মোট ১০টি ক্রীড়া
ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।