সিলেট
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দলের গতি ও সুইংয়ের চমৎকার
ঝড় দেখা গেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে তার কোনো প্রভাবই ফেলতে পারছে না সফরকারী ওয়েস্ট
ইন্ডিজ। উইকেটের ফায়দা নিয়ে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা শুরু থেকেই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করতে শুরু করেন। যদিও দলের বিপদে দুই অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান
মিরাজ জোড়া আঘাত হেনে প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ ভাঙার চেষ্টা করেছেন, তবুও চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনের খেলা শেষে প্রায় চার গড়ে রান তুলে ৯৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ
লিড অর্জন করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
রোববার
(৮ নভেম্বর) চতুর্থ দিনের খেলা শেষে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার প্রাক্কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪ ওভার ব্যাট
করে ২ উইকেটের বিনিময়ে
সংগ্রহ করেছে ১২৮ রান। ক্রিজে কাভেম হজ ৩০ রান
এবং কেভিন উইকহ্যাম শূন্য রান নিয়ে অপরাজিত থেকে ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন। এর আগে ক্যারিবীয়দের
দুই ওপেনার অত্যন্ত মারমুখী ভঙ্গিতে ব্যাটিং করে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন, যার মধ্যে ব্রেন্ডন কিং ৬১ রান এবং
জশুয়া ডি সিলভা ৩৬
রান করে আউট হয়েছেন।
এর
আগে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনটি দুর্দান্ত লড়াই করে সম্পূর্ণ নিজেদের অনুকূলে টেনে এনেছিলেন তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। যদিও ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল, তবুও তাওহীদ হৃদয়ের এক অবিশ্বাস্য ও
ঐতিহাসিক ২৪২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে নাজমুল
হোসেন শান্তর দল প্রথম ইনিংসে
৩০ রানের মূল্যবান লিড নিতে সক্ষম হয়। এরপর গতকাল তৃতীয় দিনের পড়ন্ত বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনো উইকেটের পতন না ঘটিয়ে ৭
রান তুলে দিন শেষ করেছিল। সেখান থেকেই আজ রোববার চতুর্থ
দিনের খেলা শুরু করে দুই ক্যারিবীয় ওপেনার ঝোড়ো গতিতে রান তুলতে থাকেন এবং গড়ে তোলেন ৮৫ রানের জুটি।
মিরপুরে
স্পিনসহায়ক উইকেটে অতীতে অকার্যকর বোলিংয়ের কারণে কিছুটা সমালোচনার মুখে পড়লেও এদিন তাইজুল ইসলামই বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন। তার করা বলটি বুঝেশুনে খেলতে না পেরে এলবিডব্লিউর
ফাঁদে পড়েন ৩৬ রান করা
জশুয়া ডি সিলভা, যার
ফলে ভাঙে সফরকারীদের বিপজ্জনক ওপেনিং জুটি। তবে ততক্ষণে দলের রান ৫৫ রানের লিড
পার হয়ে যায়। ওপেনিং সঙ্গী আউট হওয়ার পর অন্য প্রান্তে
নিজের স্বভাবসুলভ ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং
চালিয়ে গিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের ষষ্ঠ ফিফটি পূর্ণ করেন ব্রেন্ডন কিং।
নতুন
ব্যাটার কাভেম হজকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বেশ হাত খুলে মারতে শুরু করেছিলেন। দ্বিতীয়
উইকেটের এই জুটি যখন
দ্রুত রান তুলে বাংলাদেশকে চাপে ফেলছিল, ঠিক তখনই দুর্দান্ত এক ব্রেক থ্রু
এনে দেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ব্যক্তিগত ৬১ রানে থাকা
ব্রেন্ডন কিং অফ স্পিনারের বলটি
সামনের পায়ে এগিয়ে ডিফেন্স করতে গেলে তার ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায়
প্রথম স্লিপে, যেখানে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কোনো ভুল না করে ক্যাচ
লুফে নেন। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির ঠিক আগে এই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যটি
স্বস্তি ফিরিয়েছে বাংলাদেশ শিবিরে।