সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের সামনে যখন সতীর্থরা একে একে আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যস্ত, ঠিক তখনই একপ্রান্ত আগলে রেখে রূপকথার জন্ম দিলেন তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। দলের চরম বিপদের মুহূর্তে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনী উপহার দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিকে আকর্ষণীয় এক ঝলমলে সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন তিনি। তার এই লড়াকু ও অবিস্মরণীয় শতকটি বিপর্যস্ত বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইনআপে স্বস্তির এক বিশাল প্রশান্তি নিয়ে এসেছে।
শনিবার ম্যাচের তৃতীয় দিনে ৮৮ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ক্রিজে থাকা মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয় আগের দিনের রানটাকে এগিয়ে নেওয়ার বড় আশা জাগিয়েছিলেন। দিনের শুরুতেই শামার জোসেফ ও জোমেল ওয়ারিকানের বল মোকাবিলা করে দলীয় রান শতরান পার করেন তারা। দুজনে মিলে গড়েন মূল্যবান পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের জুটি। তবে ব্যক্তিগত ৩৪ রান করে জোমেল ওয়ারিকানের বলে শর্ট কাভারে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক। এরপর গত ম্যাচের সফল ব্যাটার লিটন দাসও উইকেটে এসে বেশি সময় টিকতে পারেননি; জোমেল ওয়ারিকানের বলে মাত্র ৮ রান করে তিনি ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। একে একে অভিজ্ঞরা উইকেট বিলিয়ে দিলে দলের ওপর চাপ আরও বাড়তে থাকে।
তবে দলের এই টলমলে অবস্থার মাঝেও নিজের মনোবল ও মনোযোগ একবিন্দুও হারাননি তাওহীদ হৃদয়। আগের দিন ২৯ রান নিয়ে খেলা শুরু করা এই ডানহাতি ব্যাটার চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় অসাধারণ সব শট খেলে প্রথমে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পূর্ণ করেন। এরপর সময়ের সাথে সাথে ইনিংসের পরিধি বাড়িয়ে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন তিনি।
মধ্যাহ্নের দিকে ইনিংসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পেসার জেডেন সিলসের বুক সমান উচ্চতার একটি বল ফাইন লেগের দিকে ঠেলে দিয়ে ৯৯ রানে পৌঁছান হৃদয়। তার সেঞ্চুরি পূর্ণ হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার ছিল—ড্রেসিংরুম ও গ্যালারির সবাই যখন উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই আম্পায়ার বাই রানের সংকেত দিয়ে তাকে কিছুটা অপেক্ষায় রাখেন। তবে সেই অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হতে দেননি তরুণ এই ব্যাটার। ঠিক পরের ওভারে স্পিনার রোস্টন চেজের বলটি মিড উইকেটের দিকে আলতোভাবে পাঠিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করেন তিনি।
এদিকে তাওহীদের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও মেহেদী হাসান মিরাজ ৩০ বলে ১৬ রান করে এবং হাসান মাহমুদ অল্প রানেই সাজঘরে ফিরে যান। উইকেটে সঙ্গীর অভাব থাকলেও তাওহীদ হৃদয় একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিবিয়ান বোলারদের আক্রমণ সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে যান। তার এই অদম্য লড়াকু মানসিকতা সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে পুরো দলকে নতুন করে লড়াইয়ের অক্সিজেন জুগিয়েছে।