মোহাম্মদ বাকী অনিক, কুমিল্লা প্রতিনিধি
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জনপদ কুমিল্লায় ক্রমেই বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা। খুন, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে কুমিল্লায় ১২০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কুমিল্লায় ১২০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ৪১৩টি চুরি, ৪০টি ডাকাতি এবং ১ হাজার ৬১৫টি অন্যান্য অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব পরিসংখ্যান জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।খুন, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও মাদক বাণিজ্যে উদ্বেগ বাড়ছে নগরবাসীর।।
কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের পাশাপাশি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটছে। জনবহুল সড়ক, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন সড়ক ও নির্জন এলাকায় চলাচল করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পথচারী ও সাধারণ নাগরিকরা। কোথাও ছিনতাই, কোথাও মাদকসেবীদের উৎপাত, আবার কোথাও প্রকাশ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠছে।
অন্যদিকে মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের বিস্তার সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। এর প্রভাব পড়ছে পরিবার, সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ওপর। মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
কুমিল্লার মতো ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলায় অপরাধের এমন পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত টহল জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে নজরদারি বৃদ্ধি, মাদকবিরোধী অভিযান এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কুমিল্লার ঐতিহ্য, সুনাম ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।