অমিত সম্ভাবনাময় এক তরুণ জীবনের এমন করুণ পরিণতি কারোরই কাম্য নয়। তুরাগ নদের গভীর থেকে ভেসে ওঠা সাবেক এক সেনা কর্মকর্তার লাশ ঘিরে দানা বাঁধছে এক অদ্ভুত রহস্য। ঠিক কী ঘটেছিল সেই সন্ধ্যায়? কেনই বা জুনিয়র বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন তিনি? উত্তর খুঁজতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলেও রহস্যের জট পুরোপুরি খোলেনি। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় রিমান্ডের মেয়াদ শেষে এবার আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলো প্রধান সন্দেহভাজনকে।
আদালতের সর্বশেষ নির্দেশ
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম আসামির জামিন আবেদন সরাসরি নামঞ্জুর করেন।
এদিন তিন দফায় মোট ১০ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন জানান। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ জামিনের পক্ষে আইনি লড়লেও শেষ পর্যন্ত বিচারক তা নাকচ করে দেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও রহস্য
নৌ-পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে আসামি দীপ মামলার ঘটনার বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। বরং পুলিশ খতিয়ে দেখছে এসব তথ্যের সত্যতা। বিশেষ করে, দীপ অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং বেশিরভাগ সময় চুপ থেকেছেন, যা তদন্তকারীদের ভাবিয়ে তুলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ফোনে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ সৌরি। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারে একটি ভয়েস মেসেজ আসে—'রওনা দিয়েছি, আসছি'। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আর ফেরেননি।
অবশেষে ২৮ অক্টোবর বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয় এবং উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে গত ৩০ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরবর্তীতে এই মামলায় দীপকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ৩১ অক্টোবর প্রথম দফায় ৪ দিন এবং ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরও ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় তাকে। এছাড়া এ মামলায় অপর আসামি জেরিকা তাসনিম দিশাকেও বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।