সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 13
ভোর হতেই হাঁস-মুরগির কোলাহল আর শত শত ডিমের ঝুড়িতে মুখরিত হয়ে ওঠে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার একটি বিখ্যাত গ্রামীণ জনপদ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা খামারি ও পাইকারদের মিলনমেলায় এটি এখন কেবল একটি সাধারণ বাজার নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখার এক বিশাল প্রাণকেন্দ্র। সপ্তাহে মাত্র দুই দিনের এই হাটে কোটি টাকার লেনদেন প্রমাণ করে কীভাবে প্রান্তিক খামারিদের নিরলস পরিশ্রমে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার প্রতাপ বাজারে সপ্তাহের প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জমজমাট ডিমের হাট বসে। আর এ হাটে কেনাবেচা শুরু হয় মূলত ভোর থেকেই। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খামারি, ব্যবসায়ী ও পাইকারদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো বাজার এলাকা। এখানে মূলত হাঁস ও মুরগির ডিমই পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বেচাকেনা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, শত শত ঝুড়ি ও কেসে সুনিপুণভাবে সাজানো রয়েছে হাঁস ও মুরগির ডিম। ভোর হতেই সিরাজগঞ্জ সদর, তাড়াশ, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও বেলকুচিসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা ডিম নিয়ে হাজির হন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী পাবনা ও নাটোর জেলা থেকেও অনেক বিক্রেতা আসেন। অন্যদিকে ঢাকা, বগুড়া ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এ হাটে এসে বিপুল পরিমাণ ডিম কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বাঙ্গালা ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় অসংখ্য হাঁস-মুরগির খামার গড়ে উঠেছে। এসব খামারে উৎপাদিত ডিম সহজে ও কম খরচে বাজারজাত করার সুবিধার্থে প্রতাপ বাজারে সপ্তাহে দুই দিন এই বিশেষ ডিমের হাট বসার প্রথা চালু হয়েছে।
স্থানীয় খামারিরা জানান, আগে তাদের উৎপাদিত ডিম বিক্রি করতে দূর-দূরবর্তীর বিভিন্ন বাজারে যেতে হতো। এতে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ ও মূল্যবান সময় দুটোই বেশি লাগত। এখন প্রতাপ বাজারে নির্দিষ্ট দিনে ডিমের বড় হাট বসার কারণে তারা খুব সহজেই স্থানীয়ভাবে ডিম বিক্রি করতে পারছেন। এতে খামারিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতাপ বাজারের এই ডিমের হাটে প্রতি হাটবারেই কোটি টাকারও বেশি কেনাবেচা হয়ে থাকে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সহজ পরিবহন সুবিধার কারণে দিন দিন এই হাটের পরিধি ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব দুটোই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাজার পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তারা জানান, প্রতাপ বাজারের এই ডিমের হাটটি এখন এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের জোরালো প্রত্যাশা, সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং আরও উন্নত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে প্রতাপ বাজারের এই ডিমের হাট ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম বৃহৎ ডিমের বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে।