দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পুকুরপাড়ে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ছবি পাঠানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটানো হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রের বাবা বাদী হয়ে শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে নবাবগঞ্জ থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের মাছুয়াপাড়া গ্রামের মৃত সবুর মেম্বারের ছেলে টুটুল ইসলাম (৩২), বুলুর ছেলে তুহিন ইসলাম (১৮), সৈনিকপাড়া গ্রামের কবিরুল ইসলামের ছেলে আরাফাত (২০), জিয়ারুল ইসলামের ছেলে রাশেদুল ইসলাম (২৫) এবং মুক্তার আলীর ছেলে আপেল (২৫)। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী রাহেনুল ইসলাম মধ্য খালিপপুর আকালীবাড়ী স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কলিম উদ্দিনের ছেলে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর স্থানীয় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে রাহেনুলের সঙ্গে তার এক বান্ধবীর দেখা হয়। সেখানে নুসরাত নামের ওই বান্ধবী তার কিছু ছবি তুলে সিহাব নামের এক ছেলের কাছে পাঠিয়ে দিতে অনুরোধ করে। রাহেনুল সরল বিশ্বাসে সেই ছবিগুলো পাঠিয়ে দিলে তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এই বিরোধের জেরে গত ৩০ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে একটি ঘটনার প্রমাণ দেখানোর কথা বলে অভিযুক্তরা রাহেনুলকে তার বাড়ি থেকে ডেকে কুশদহ ইউনিয়নের মল্লাই পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। একই রাতে গোলাম রব্বানীর ছেলে পারভেজকেও সেখানে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্ত পাঁচজন মিলে দুই কিশোরের হাত-পা শক্ত করে বেঁধে মুখে গেঞ্জি গুঁজে শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি মারধর শুরু করেন। পৈশাচিকতার একপর্যায়ে তাদের গলায় পা দিয়ে চেপে ধরা, স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত এবং পুকুরের কচুরিপানার পানিতে চুবিয়ে মারাত্মক নির্যাতন করা হয়। শারীরিক এই নির্যাতনে একপর্যায়ে রাহেনুল জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অচেতন ও জখম অবস্থায় রাহেনুলকে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে অভিযুক্তরা হুমকি দেয় যে, এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। পরবর্তীতে সন্তানের ওপর এমন বর্বর নির্যাতনের কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে রাহেনুলের বাবা কলিম উদ্দিনকেও মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস গণমাধ্যমকে জানান, স্কুলছাত্র রাহেনুলকে হাত-পা বেঁধে মারধর ও নির্যাতনের বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।