বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট ও কোটি টাকার ঝনঝনালীতে ভরপুর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আসন্ন আসরকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে দলগঠনের প্রক্রিয়া। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠებব্য মিনি নিলামের আগে যখন দলগুলো নিজেদের সেরা কম্বিনেশন সাজাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই নতুন এক শর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। প্রথম সারির বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার সোজাাসুজি জানিয়ে দিয়েছেন, দলে থাকতে হলে তাদের পারিশ্রমিক দিতে হবে অন্তত ৪০ কোটি রুপি। এই বিপুল অংকের দাবিতে রাজি না হলে তারা ধরে রাখার তালিকায় থাকতে নারাজ, বরং সরাসরি নিলামে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করতে মুখিয়ে আছেন তারা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রিকেটারদের এমন আকাশচুম্বী দাবির পেছনে মূলত কাজ করছে আইপিএলের নিলামে ক্রমবর্ধমান অর্থের বিপুল প্রবাহ। খেলোয়াড়দের স্পষ্ট ধারণা, ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে নির্দিষ্ট অংকের চুক্তিতে আবদ্ধ থাকার চেয়ে প্রকাশ্য নিলামে নাম তুললে তাদের আর্থিক প্রাপ্তি আরও অনেক বেশি হতে পারে। আর এই সম্ভাবনাকে অস্ত্র বানিয়েই এখন দলগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছেন তারা।
এর আগে ২০২৫ সালের মেগা নিলামেও এই কৌশলের দারুণ নজির দেখা গিয়েছিল। সে সময় রেকর্ড গড়ে শ্রেয়াস আইয়ারকে ২৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে দলে ভিড়িয়েছিল পাঞ্জাব কিংস। অন্যদিকে, রিশভ পান্তের পেছনে রেকর্ড ২৭ কোটি রুপি খরচ করতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেনি লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস। সেবারের সেই আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিকই মূলত বর্তমান তারকাদের মনে আরও বড় অংকের পারিশ্রমিক পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি করে দিয়েছে।
খেলোয়াড়দের এই উচ্চাশার পেছনে রয়েছে ভবিষ্যতের মেগা নিলামের বড় বাজেট। গুঞ্জন রয়েছে, পরবর্তী মেগা নিলামে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মোট পারিশ্রমিক বাজেট ১২০ কোটি রুপি থেকে বাড়িয়ে ১৫০ কোটি রুপি করা হতে পারে। দলগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ার এই জোরালো সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়েই এখন থেকেই নিজেদের বাজারদর বাড়িয়ে নেওয়ার খেলায় মেতেছেন শীর্ষ ক্রিকেটাররা।
তবে তারকাদের এমন শর্ত মানতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। দলের কোনো একজন একক খেলোয়াড়কে ৪০ কোটি রুপি দিয়ে ধরে রাখলে বাকি স্কোয়াড শক্তিশালী করার জন্য বাজেটের বড় অংশই ফুরিয়ে যাবে। ফলে নিলামের ঠিক আগে খেলোয়াড়দের অযৌক্তিক চাহিদা এবং নিজস্ব আর্থিক পরিকল্পনার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করা দলগুলোর জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(সূত্র: ক্রিকবাজ)