আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যে
দেশ আমেরিকার পণ্যে যতটা শুল্ক চাপিয়ে থাকে, ২ এপ্রিল থেকে সেই দেশের পণ্যে পাল্টা
তার উপযুক্ত শুল্ক আরোপের কথা আগেই জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আর দিনটিকে আগেই যুক্তরাষ্ট্রের “লিবারেশন ডে” হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন তিনি।
সেই
হিসেবে স্থানীয় সময় বুধবার (২ এপ্রিল) ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নতুন ধরনের পারস্পরিক শুল্ক
আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তার যুক্তি, আরোপিত এসব শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রকে সফল করবে। লিবারেশন
ডে’র এই ঘোষণায় ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে
আমেরিকা।
অন্যদিকে
চীনের পণ্যের ওপর শুল্ক অরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ। একইভাবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত
(ইউএই), জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপীয়
ইউনিয়নসহ বহু দেশের ওপরই বিভিন্ন মাত্রায় শুল্ক অরোপ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল)
এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
নির্বাহী
আদেশের মাধ্যমে ট্রাম্পের আরোপিত এই শুল্ক বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা দেবে
বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া হোয়াইট হাউস প্রায় ১০০টি দেশের তালিকা এবং যুক্তরাষ্ট্র
যে শুল্ক আরোপ করবে তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।
ভারতের
ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। এ ছাড়া চীনের ওপর ৩৪ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের
ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনাম ৪৬ শতাংশ, জাপান ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়া ২৫ শতাংশ, যুক্তরাজ্য
১০ শতাংশ, থাইল্যান্ড ৩৬ শতাংশ এবং সুইজারল্যান্ডের ওপর ৩১ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে।
১০
শতাংশ বেসলাইন ট্যারিফ
বিবিসি
বলছে, বুধবার ট্রাম্পের ভাষণের আগে হোয়াইট হাউসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের
বলেন, মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট সকল দেশের ওপর “বেসলাইন ট্যারিফ”
আরোপ করবেন। এই হার ১০% নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামী ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
তবে
বিশ্বের মাত্র কিছু দেশ কেবল বেস রেটের ট্যারিফের মুখোমুখি হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
যুক্তরাজ্য
সিঙ্গাপুর
ব্রাজিল
অস্ট্রেলিয়া
নিউজিল্যান্ড
তুরস্ক
কলম্বিয়া
আর্জেন্টিনা
এল
সালভাদর
সংযুক্ত
আরব আমিরাত
সৌদি
আরব।
হোয়াইট
হাউসের কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, তারা প্রায় ৬০টি “সবচেয়ে খারাপ অপরাধী”
দেশের ওপর নির্দিষ্ট পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করবেন যা আগামী ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
এই
দেশগুলো মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করে, মার্কিন বাণিজ্যে “অ-শুল্ক”
বাধা আরোপ করে অথবা অন্যথায় এমনভাবে কাজ করেছে যা মার্কিন সরকার মনে করে যে—
আমেরিকান অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলোকে দুর্বল করে থাকে।
এই
কাস্টমাইজড শুল্ক হারের আওতাভুক্ত প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে:
ইউরোপীয়
ইউনিয়ন: ২০ শতাংশ
ভারত:
২৬ শতাংশ
চীন:
৩৪ শতাংশ
ভিয়েতনাম:
৪৬ শতাংশ
থাইল্যান্ড:
৩৬ শতাংশ
জাপান:
২৪ শতাংশ
কম্বোডিয়া:
৪৯ শতাংশ
দক্ষিণ
আফ্রিকা: ৩০ শতাংশ
তাইওয়ান:
৩২ শতাংশ
বুধবার
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণায় কানাডা এবং মেক্সিকোর বিষয়ে কোনও কথা উল্লেখ
নেই। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা পূর্ববর্তী নির্বাহী আদেশে বর্ণিত কাঠামো ব্যবহার
করে উভয় দেশের সাথে শুল্কের বিষয়টি মোকাবিলা করবে। মূলত ফেন্টানাইল এবং সীমান্ত সমস্যা
মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে কানাডা এবং মেক্সিকোর ওপর শুল্ক
আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়াও
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র “বিদেশে তৈরি সকল
ধরনের অটোমোবাইলের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপ করবে”। এই শুল্ক প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে অর্থাৎ
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ৩ এপ্রিল মধ্যরাতেই কার্যকর হবে।
আকাশজমিন/আরআর