ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নিহত

বাগমারায় মাছ ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৭ এপ্রিল, ২০২৫ সময় : ৪:২৫ এএম

উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি:

রাজশাহীর বাগমারায় চাঁদা না পেয়ে আবদুর রাজ্জাক (৩৫) নামের এক মাছ ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে আমিনুল ইসলাম (২২) নামে ওই হামলাকারী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর উপজেলার রনশিবাড়ি গ্রামে সংঘটিত ঘটনার সময় ক্ষুব্ধ লোকজনের হামলায় থানা পুলিশের উপপরিদর্শকসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে পুলিশ অপরটি মাছ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের ভাই। দুটি মামলায় অন্তত অজ্ঞাত হাজারজনকে আসামী করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহত মাছ ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক বাগমারার সীমান্তবর্তী নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গোয়ালবাড়ি গ্রামের মো মিঠুনের ছেলে। আর আমিনুল ইসলাম একই গ্রামের বাসিন্দা মো. ঝড়ুর ছেলে।

বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে মাছ বিক্রি করছিলেন রাজ্জাক। সময় তার কাছে টাকা চান আমিনুল। তাকে টাকা দিতে অস্বীকার করলে পাশের কামারের দোকান থেকে ছুরি এনে রাজ্জাকের বুকে আঘাত করে সে। এতে ঘটনাস্থলেই মাছ ব্যবসায়ী নিহত হন। পরে ঘাতক আমিনুলকে আটক করে গণপিটুনি দেন এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে সেখানে যায় পুলিশ। আমিনুলকে পুলিশ থানায় আনার পথে তাকে ছিনিয়ে নেন স্থানীয়রা। সঙ্গে সঙ্গে ইট দিয়ে তার মাথা থেঁতলে দেন। এতে তার মৃত্যু হয়। ঘটনায় পুলিশের এক কর্মকর্তাসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতেই সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়।

পুলিশ স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে আবদুর রাজ্জাক বাগমারা উপজেলার রনশিবাড়ি বাজারের মাছ বিক্রি শেষে নজরুলের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে একই গ্রামের আমিনুল ইসলাম দোকানে ঢুকে আবদুর রাজ্জাককে ছুরি দিয়ে বুকে আহত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে দৌড় দেন আমিনুল। তার আগেই মাছ বিক্রির সময় আমিনুল চাঁদা চান রাজ্জাকের কাছে। টাকা না দিলে তাকে হুমকি দিয়ে ছুরি আনতে কামারের দোকানে যান। সময় বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে চা পান করছিলেন রাজ্জাক।

স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে আমিনুলকে ধাওয়া করেন। সময় রনশিবাড়ি গ্রামের আবদুর রশিদের বাড়িতে সে আশ্রয় নেন। ক্ষুব্ধ লোকজন বাড়িটি ঘিরে রাখে। খবর পেয়ে বাগমারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে লোকজনের বাঁধার মুখে পড়ে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। লোকজন কয়েক দফা বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চালায়। তারা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাদের হাতে তুলে দিয়ে পুলিশকে চলে যেতে বলে।

পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ক্ষুব্ধ লোকজন বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। বাধা দিলে উপপরিদর্শক সাদিকুল ইসলামসহ পুলিশের ছয় সদস্যকে লাঞ্ছিত মারধর করে ভেতরে ঢুকে পড়েন বিক্ষুব্ধ জনতা। এরপর বাইরে এনে মারধর করেন জনতা। একপর্যায়ে গণপিটুনিতে আমিনুল মারা যায়।

বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, রাতেই দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। শনিবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওসি বলেন, ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে পুলিশ। অপরটি মাছ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের ভাই। দুটি মামলায় অন্তত অজ্ঞাত হাজারজনকে আসামী করা হয়েছে বলে জানান তিনি।#


এ সম্পর্কিত আরো খবর