উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 136
উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি
রাজশাহীর চারঘাটে একদিনে একই সময়ে দুইজনের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। চলছে নানা গুঞ্জন. জল্পনা-কল্পনা। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে পেটের যন্ত্রনায় স্বাভাবিক ভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি বিষাক্ত মদ পানে মারা গেছেন দুইজন। হাসপাতাল রিপোর্টে একজনের মৃত্যু হার্ট ফেইলরের কারন লেখা থাকলেও অন্যজনের মৃত্যুর কোন তথ্য নেই। পুলিশের দাবি মদপানে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লেও ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত দুই জনের শরীরে মদপানের আলামত পাওয়া যায়নি। ফলে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার
দুপুরের দিকে উপজেলার নিমপাড়া
ইউনিয়নের হাবিবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজনের একজন শামসুল হকের
ছেলে অন্তর ওরফে নাদিম (২৮)
ও একই এলাকার আবুল
কালামের ছেলে মাসুদ রানা
(৩২)।
চারঘাট
থানার ওসি মিজানুর রহমান
জানান, মঙ্গলবার দুুপুরের দিকে থানায় খবর
আসে নিমপাড়া ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামের ২ ব্যক্তি বিষাক্ত
মদপানে মারা গেছে। আহত
অবস্থায় রয়েছেন আরো একজন। এমন
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে
মৃত ব্যাক্তির পরিবারের সদস্যদের তথ্যের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের কোন
মিল পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক ভাবে মৃত দুই
ব্যক্তির শরীরে বিষাক্ত মদপানে মৃত্যর কোন আলামত লক্ষ্য
করা যায়নি।
এলাকাবাসীর
সঙ্গে কথা বলে জানা
যায়, গত সোমবার দিবাগত
রাতে একই এলাকার অন্তর
ওরফে নাদিম, মাসুদ রানাসহ ৪/৫ জন
ব্যক্তি বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে অন্তর
ওরফে নাদিম ও একই এলাকার
মাসুদ রানাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার
পথে অন্তর হাসপাতালে পৌছানোর আগেই মারা যায়।
আর মাসুদ রানাকে হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায়
মারা যান।
এদিকে
মঙ্গলবার দুপুরে দুইজনের লাশ নিয়ে নিজ
এলাকায় ফিরে আসলে বিষাক্ত
মদপানে মারা যাওয়ার খবর
ছড়িয়ে পড়ে। দুই পরিবারে
সদস্যসহ আশেপাশের প্রতিবেশীরা তরিঘড়ি করে লাশ দাফনের
প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। এ খবর জানতে
পেরে চারঘাট থানার ওসি মিজানুর রহমানের
নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে
গিয়ে লাশ দাফনে বাধা
দেন। পরে এলাকাবাসী ও
মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে নিমপাড়া
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও গন্যমান্য ব্যাক্তিদের
উপস্থিতিতে লাশ দাফনের অনুমতি
দেন।
ইউপি
চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিবেশীদের দাবি তাদের স্বাভাবিক
মৃত্যু হয়েছে। তেমন কোন তথ্য
না পাওয়ায় পুলিশ লাশ দাফনের অনুমতি
দিয়েছেন।
এ
দিকে নাম প্রকাশ না
করার শর্তে স্থানীয়দের একটি পক্ষ জানান,
নিমপাড়া ইউনিয়নের নন্দনগাছী রেল স্টেশন, হাবিবপুর,
কালাবিপাড়া, জোতকার্ত্তিক, কালোহটি ও পুঠিমারী এলাকায়
ভ্রাম্যমাণ মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে চুয়ানী, গাজা
ও ইয়াবা সেবন আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি
পেয়েছে।
আকাশজমিন/আরআর