ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ দাবি

কবি মাশরেকীর জন্ম-মৃত্যু বার্ষিকী সরকারি ভাবে পালন দাবি


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ০৯ মে, ২০২৫ সময় : ১০:১৬ এএম

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ

মাটি ও মানুষের কবি আবদুল হাই মাশরেকী । তবুও জন্মদিনে উপেক্ষিত তিনি। সরকারি ভাবে তাঁর জন্মদিন পালনের কোনও উদ্যোগ নেই। উদ্যোগ নেই অবহেলায় থাকা তাঁর সমাধিস্থল সংরক্ষণের। নষ্ট হওয়ার হাত থেকে তাঁর পাণ্ডুলিপি বাঁচানোর। এই উপেক্ষার মধ্যেই গত শুক্রবার জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চের উদ্যোগে কবির ১১৬তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠান  হয়েছে।

 

ময়মনসিংহের মুসলিম ইন্সটিটিউটে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম মিথুন এর সঞ্চালনায় মঞ্চের সভাপতি ও ময়মনসিংহ ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব আজিজুল হাই সোহাগের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি ও দৈনিক ডেসটিনির সম্পাদক কবি গবেষক মাহমুদুল হাসান নিজামী।

 

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কবি শামসুল ফয়েজ, কবি সোহরাব পাশা, কবি নজরুল হায়াত, ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট এম এ হান্নান খান, জেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ ইউসুফ লিটন,

কথাশিল্পী সালাহ উদ্দিন পাঠান, কবিপুত্র নঈম মাশরেকী, কবি জালাল উদ্দিন আহমদ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল নাকীব, কবি শামীম আশরাফ,  কবি শহীদুল ইসলাম সেলিম, আব্দুর রাজ্জাক, ওমর ফারুক আহাম্মেদ, আবুল খায়ের প্রমুখ।

 

জানা যায়, সরকারি উদ্যোগে কবি আবদুল হাই মাশরেকীর জন্মদিন ও মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হতো ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার  ১৯৯২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রচারিত হতো। বাংলাদেশ টেলিভিশন কার্যালয়ে সংরক্ষিত ছিলো তাঁর ছবি ছিল এবং কবির লিখা গান, গীতিনাট্য, থেকে তৈরি চলচ্চিত্রের গান নিয়মিতই পরিচালিত হতো বাংলাদেশ টেলিভিশন। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগও নেয়া হয়েছিল সেই সময়ে। এরপর দেশে নতুন সরকার গঠন হলে জন্মদিন পালনের জন্য সরকারি বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় মাশরেকীর বন্দনা। রাস্তা করার অজুহাতে ভেঙে ফেলা হয় কবির সমাধির একাংশ। লোককবির সমাধিস্থল অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে গ্রামবাসী ও আত্মীয়দের। এখনও কবির কিছু পাণ্ডুলিপি রয়েছে তাঁর উত্তরসূরিদের কাছে।

 

বক্তারা বলেন, কবি মাশরেকীর সাহিত্য অবদান শুধু গানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তিনি ছিলেন বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর, বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অথচ এই কালজয়ী স্রষ্টার যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আজও অধরা। তারা আরো বলেন, এমন একজন লেখক যিনি শোষিত মানুষের ব্যথা-বেদনা গান ও কবিতায় ধারণ করেছেন, তাকে অবহেলিত রাখা আমাদের জাতিগত ব্যর্থতা। অনতিবিলম্বে তাঁকে ২১শে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করার আহবান জানানো হয়।

 

উল্লেখ্য,  স্বনামধন্য কবি আবদুল হাই মাশরেকীর স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর নিজ গ্রামে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে ১০ শতাংশ জায়গার উপর পাঠাগার, সংগীত একাডেমি ও গবেষণা কেন্দ্র, কবির মাজার সংস্কার ও সংলগ্ন সীমানা দেয়াল নির্মাণ করা জন্য প্রয়োজন। দেশের বিভিন্নস্থান থেকে বিভিন্ন শ্রেণির ও পেশাজীবী মানুষ কবিকে শ্রদ্ধা জানানো ও তাঁর ওপর গবেষণার জন্য মাজার পরিদর্শন করে থাকেন। ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ থেকে দেওয়াল নির্মাণের জন্য অনুদান যৎ সামান্য অর্থ রবাদ্দ করলেও সেই অর্থ দিয়ে পুরো স্থানে দেওয়াল নির্মাণ সম্ভব হয়নি। এছাড়াও পাঠাগার, সংগীত একাডেমি ও গবেষণার জন্য বিল্ডিং নির্মাণ করা এলাকার সুধীজনদের দীর্ঘদিনের দাবি।

 

প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে গণমানুষের কবির মাজারসহ 'কবি আবদুল মাশরেকী একাডেমি'র রক্ষাণাবেক্ষণ, পাঠাগার, সংগীত একাডেমি ও গবেষণার জন্য বিল্ডিং নির্মাণ করা কবি পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। কেবল মাত্র সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ নিজস্ব তহবিল হতে অনুদান প্রদানে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে বুদ্ধিজীবী ও এলাকাবাসীরা মনে করেন।

 

তারই প্রেক্ষিতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদে চলতি মাসের ৬ তারিখে কবি আবদুল হাই মাশরেকীর পক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকার অনুদানের জন্য একটি আবেদন পাঠানো হয়।

আকাশজমিন/আরআর

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর