ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

পাবনায় জাল কাগজপত্র তৈরি করে খাস সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৮ মে, ২০২৫ সময় : ৮:২১ পিএম

কাজী বাবলা, পাবনা:

পাবনায় একটি চিহিৃত প্রতারকচক্র জাল কাগজপত্র তৈরি করে ‘খ তফসিল ভুক্ত (খাস সম্পত্তি) ৫৯ শতাংশ জমি প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যে বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাবনা জেলার সাঁথিয়া পৌর এলাকার দৌলতপুর গ্রামে এঘটনা ঘটেছে। ভুমি অফিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। 

সুনিদৃষ্টি অভিযোগ থেকে জানা গেছে, প্রতারকচক্রের সদস্যরা হলেন, পাবনার সুজানগর পৌরসভার ভবাণীপুর গ্রামের মৃত তারাপদ হালদারের ছেলে রবীন্দ্রনাথ হালদার ও সাঁথিয়া পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের তায়জাল হোসেন খাঁন এর ছেলে এটি হক লিমিটেডের পাবনা জেলা সেলস্ ম্যানেজার ফরহাদ হোসেন। সরকারী খাস খতিয়ানভুক্ত ৫৯ শতাংশ জমি মধ্যে ২৫ শতাংশ বিক্রি এবং অবশিষ্ঠ ৩৪ শতাংশ জমি অপ্রত্যাহার যোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ফরহাদ হোসেনের নামে রেজিষ্ট্রি করে দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, সাঁথিয়া পৌরসভা এলাকার দৌলতপুর গ্রামের মোবারক আলী খাঁন এর ছেলে লাল হোসেন খাঁন ১৯৬৮ সালে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান সরকার হতে প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে দৌলতপুর মৌজার ৫৯ শতাংশ জমি ক্রয় সূত্রে ভোগ দখলে ছিল। যার জে এল নং ১১৩, দাগ নং ৫৫৯/৫৬৪, খতিয়ান নং ০২/২৩১। খাজনা পরিষোধ না করার কারণে ওই জমি ‘খ তফসিল ভুক্ত করা হয়। এদিকে লাল হোসেন খাঁন এর মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশগণ সম্পত্তি বিক্রয় করে দেন। বর্তমানে ওই জমিতে ক্রয় সূত্রে ১৯টি পরিবার বিল্ডিং, আধাপাঁকা, কাঁচাঘর ও বাগান বাড়ি করে ভোগ দখল করে আসছে। এছাড়া জমিটির স্বত্ববান হওয়ার জন্য পাবনার যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।

প্রতারক চক্রের প্রধান রবীন্দ্রনাথ হালদারকে দৌলতপুর গ্রামসহ আশে পাশের কেউ চিনেন না। প্রায় ৬০ বছর পর রবীন্দ্রনাথ হালদার ওই জমি তার নানার দাবী করে ওয়ারিশানের ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করেন। তাকে এ কাজে সহযোগিতা করেন ফরহাদ হোসেন। রবীন্দ্রনাথ হালদার ২ ভাই ১ বোন হওয়া স্বত্বেও ওয়ারিশান সার্টিফিকেটে তা গোপন করে পিতার একমাত্র সন্তান দাবী করে ভূয়া ওয়ারিশ সেজে, সাঁথিয়া পৌরসভা মেয়র এর স্বাক্ষর জালসহ পৌরসভার ভূয়া স্মারক-তারিখ বসিয়ে ওয়ারিশান সনদ তৈরি করেন। যা দিয়ে পরবর্তিতে উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ম্যানেজ করে ‘খ তফসিল হতে জমি অবমুক্ত করে নামজারী সহ খাজনা-খারিজ সম্পন্ন করেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে এবং বর্তমান বসবাসকারীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) তদন্তে ওয়ারিশান সনদ জাল ও ভূয়া প্রমানীত হওয়ায় নামজারী বাতিল করে ওই জমি পূর্বের মূল খতিয়ান ‘খ তফসিলে ফেরত পাঠান। রায়ের কপি জ্ঞাতার্থে ও কার্যার্থে সাব-রেজিষ্ট্রার সাঁথিয়া, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, বাদী ও বিবাদীকে প্রেরেণ করেন। এ রায়ের দুই সপ্তাহের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ হালদার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাঁথিয়া, পাবনার অফিস আদেশ অমান্য করে প্রতারকচক্রের অপর সদস্য ফরহাদ হোসেনের কাছে সাঁথিয়া সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে গিয়ে ‘খ’ তফশিল ভুক্ত¬ ৫৯ শতাংশ জমির মধ্য হতে ২৫ শতাংশ জমি কবলা দলিল মূলে বিক্রি করেন। যার দলিল নং ৬৬৮৫, তারিখ: ১১/১১/২০২৪ইং। অবশিষ্ঠ ৩৪ শতাংশ জমি অপ্রত্যহার যোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলে রেজিষ্ট্রারী করে দেন। যার দলিল নং ৬৬৮৬, তারিখ: ১১/১১/২০২৪ ইং।

উক্ত জমিতে বসবাসকারী অবসর প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষা অফিসার জালাল উদ্দিন মল্লিক বলেন, আমার বয়স ৭৫ বসর। এখানেই আমার জন্ম ও বড় হয়েছি। এ পর্যন্ত কোন দিন শুনিনি বা দেখিনি শিবেন্দ্র নাথের কেউ দেশে আছে। হঠাৎ সুজনগর ঊপজেলার রবিন্দ্রনাথ হলাদার এতো বছর পর এসে দাবি করছে এই সম্পত্তি তার নানার। এই প্রতারক চক্র এভাবেই ভিপি ও খাস জমি জাল কাগজ পত্র তৈরি করে জমি হাতিয়ে নেয়। তিনি এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

এব্যাপারে রবীন্দ্রনাথের কাছে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে “খ তফশিলভূক্ত সম্পত্তি বিক্রি ও অফেরযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটোর্নি রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন “এ ব্যাপারে আপনার সাথে কথা বলে আমার কোন লাভ নেই ”।

সাঁথিয়ার সাব-রেজিষ্ট্রার কামরুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভূমি অফিসের খাজনা খারিজ দেখেই রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে। তবে এ খাজনা খারিজ ভূয়া কি না এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে চিঠি পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া সুলতানা বলেন, পৌর সভার ওয়ারিশান সার্টিফিকেটের পরিপ্রেক্ষিতে খাজনা খারিজ দেয়া হয়েছিল। পরে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে ওয়ারিশ সার্টিফিকেট ভূয়া প্রমাণিত হওয়ায় খাজনা খারিজ বাতিল করে সম্পত্তি মূল খতিয়ানভূক্ত করা হয়। এ ব্যাপারে দোষিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর