ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

স্ত্রীর প্রেমিককে ফাঁসাতে বন্ধুকে হত্যা

তাড়াশের চাঞ্চল্যকর মার্ডার মামলার রহস্য উন্মোচন


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৮ মে, ২০২৫ সময় : ১২:২৩ এএম

সিরাজগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধিঃ

তাড়াশের চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস মার্ডার মামলার রহস্য উৎঘাটন, স্ত্রীর প্রেমিককে ফাঁসাতে বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা করে মোঃ সেলিম হোসেন। চাঞ্চল‌্যকর এই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সেলিম চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রেম ও প্রতিশোধের গল্প প্রকাশ করেন।

নিহত রাশেদুল ইসলাম (৪০) সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌরসদরের ওয়াপদাবাঁধ এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে এবং পেশায় একজন পিকআপ চালক। গত শনিবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে তাড়াশ পৌরসভার আসানবাড়ি এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই তাড়াশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই ক্লু-লেস এই হত্যা মামলার তদন্তে নামে জেলা পুলিশ।

পুলিশ সুপার মোঃ ফারুক হোসেনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় তদন্তে নামে একটি চৌকস টিম। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আসানবাড়ি গ্রামের মৃত সামছুল হোসেনের ছেলে ও রাশেদুল ইসলামের বন্ধু মোঃ সেলিম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার (২১ এপ্রিল) বিকালে তাকে আদালতে হাজির করলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেলিমের স্ত্রী শেরজা জনৈক আউয়াল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে যান, কিন্তু তালাক না হওয়ায় তি‌নি স্ত্রীকে ফিরে পেতে মরিয়া ছিলেন। এই কারণে আউয়ালের প্রতি ক্ষোভ জমতে থাকে সেলিমের। বা‌ড়ি‌তে ফে‌লে রে‌খে যাওয়া স্ত্রী শেরজার ব্যাগে প্রেমিক আউয়ালের একটি মানিব্যাগ, ছবি, সিমের কাগজ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি খুঁজে পান তিনি। তখনই থে‌কেই পরিকল্পনা করেন, বন্ধুকে হত্যা করে সেই মানিব্যাগ মরদেহের পাশে রেখে দিলে আউয়ালকে ফাঁসানো যাবে এবং স্ত্রীকে ফিরে পাওয়া যাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পহেলা বৈশাখের আগে সেলিম একটি মেমোরি কার্ড, ঘুমের ওষুধ ও বাংলা মদ সংগ্রহ করেন। ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় রাশিদুলকে মদ খাওয়ার প্রস্তাব দিয়ে ধানক্ষেতে নিয়ে যান। স্পিডের বোতলে মিশিয়ে দেন ঘুমের ওষুধ, আর ক্লেমনের বোত‌লে রাখেন শুধুই মদ। ঘুমের ওষুধ মেশা‌নো মদ খে‌য়ে রাশেদুল অচেতন হলে কোমরে থেকে ছুরি বের করে তাকে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে ধানক্ষেতের পা‌শে লাশ ফেলে রেখে বাড়ি ফিরে যান তিনি। পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, ঘুমের ওষুধযুক্ত স্পিডের বোতল, মদের ক্লেমনের বোতল, মানিব্যাগ, রাশিদুলের মোবাইল ও একটি মেমোরি কার্ড উদ্ধার করেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ একরামুল হোসাইন বলেন, বন্ধু রাশেদুলকে হত্যা করে স্ত্রীর প্রেমিক আউয়াল এর পরিচয় শনাক্তের কিছু জিনিস লাশের পাশে রাখেন সেলিম। যেনো, সবাই আউয়ালকে সন্দেহ করে হত্যাকা‌রি হিসা‌বে। আউয়াল ফেসেঁ গেলে সে আবার তার স্ত্রীকে ফিরে পেতেন।

আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর