উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 196
উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের
মহারাজপুরে শত বছরের আবদুল
আজিজ ওয়াক্ফ এস্টেটের গাছ কাটা নিয়ে
এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ওয়াক্ফ
এস্টেটের এখন মোতাওয়ালী গোলাম
ফারুক, যিনি একজন জেলা
ও দায়রা জজ। গত ১০
বছর ধরে তিনি এস্টেট
কুক্ষিগত করে রেখেছেন। মুলত:
মুর্যবান গাছ কাটা নিয়ে
মহারাজপুর চৌধুরীপাড়ায় এখন চরম উত্তেজনা।
যে কোনো সময় ঘটতে
পারে সংঘর্ষের ঘটনা।
খোঁজ
নিয়ে জানা যায়, এলাকার
ধর্নাঢ্য ব্যক্তি আবদুল আজিজ চৌধুরীর মৃত্যুর
পর ১৯২৫ সালে তাঁর
৪৬৩ দশমিক ৬২ একর বা
১ হাজার ৪০২ দশমিক ৮৯
বিঘা জমি নিয়ে এই
ওয়াক্ফ এস্টেট প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিপুল
এই সম্পত্তিতে রয়েছে ধানী জমি, পুকুর,
খাড়ি, বসতবাড়ি, আমবাগান ও মেহগনি গাছ।
ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ক্রমানুসারে
মোতাওয়াল্লী নিযুক্ত হচ্ছিল। ২০১৫ সালে মোতাওয়াল্লী
নিযুক্ত হন গোলাম ফারুক।
এরপর থেকেই শুরু হয় নানা
অস্থিরতা। বিচারক গোলাম ফারুকের দাদীর বাবা ছিলেন প্রয়াত
আবদুল আজিজ চৌধুরী।
সম্প্রতি
সম্পত্তিতে থাকা কিছু গাছ
কাটা হয়। এ নিয়েই
মোতাওয়াল্লী গোলাম ফারুক ও সাবেক মোতাওয়াল্লী
জুবিন চৌধুরীর অনুসারিদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত
বৃহস্পতিবার সাবেক মোতাওয়াল্লীর অনুসারিরা রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে সরকারের বন ও পরিবেশ
উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এদিকে
গাছ কাটার প্রতিবাদে বুধবার সকালে জুবিন চৌধুরীর সমর্থকেরা মহারাজপুরের শিশা বাগানে মানববন্ধনের
আয়োজন করেন। সেখানে হাজির হন মোতাওয়াল্লী গোলাম
ফারুকের ভাই ওমর ফারুকসহ
তাদের অনুসারিরা। দুপক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে মানববন্ধন পণ্ড হয়ে যায়।
এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে
তুমুল বাগ্বিতণ্ডা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে স্থানীয়দের
গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে এলাকায়
এখনও উত্তেজনা আছে।
সাবেক
মোতাওয়াল্লী জুবিন চৌধুরী বলেন, গোলাম ফারুক অবৈধভাবে আবদুল আজিজ ওয়াক্ফ এস্টেট
দখলে নিয়েছেন। গত ১০ বছরের
বেশী সময় ধরে তিনি
এস্টেটের সম্পদ তছরুপ করছেন। লাখ লাখ টাকার
গাছপালা চোখের সামনে কেটে বিনিষ্ট করছেন।
ইতিমধ্যে মুকুলিত আমগাছ, মেহগনিসহ শিশুগাছ কেটে ফেলেছেন। এ
নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা
দিয়েছে।
তিনি
আরও বলেন, সম্প্রতি এস্টেটের ভেতরের প্রায় ১৩টি আম গাছ,
১১টি মেহগনি ও ৮টি শিশু
গাছ কেটে বিক্রি করে
দেওয়া হয়েছে। গাছগুলোর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।
গাছগুলো মরে যাচ্ছে এমন
অজুহাতে কাটা হয়েছে। সরকারি
চাকরিজীবী হয়েও ওয়াকফ এস্টেস্টের
সম্পতির ওপর রক্ষিত মূল্যবান
গাছপালা কেটে বিক্রি করে
তছরূপ করে চলেছেন তিনি।
জানতে
চাইলে এস্টেটের বর্তমান মোতাওয়াল্লী গোলাম ফারুক বলেন, ‘পুরাতন বাগানের কিছু গাছ মরে
গিয়েছিল। সেগুলো কেটে অপসারণ করা
হয়েছে। ওয়াকফ এস্টেটের দোতলা বাড়ির দরজা-জানালা তৈরির
জন্যও ২-৩টি মেহগনির
গাছ কাটা হয়েছে। সঙ্গে
সঙ্গে ফাঁকা জায়গায় গাছ লাগিয়ে দেওয়া
হয়েছে।
আকাশজমিন/আরআর