আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জম্মু
ও কাশ্মিরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও
পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কার্যত চরমে পৌঁছেছে এবং
এই উত্তেজনা সামরিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা
ক্রমেই বাড়ছে। এমনকি আগামী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে
ভারত পাকিস্তানে হামলা করতে পারে বলে
গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে
দেশটি। এমন অবস্থায় উত্তেজনা
ছড়িয়েছে কাশ্মিরের আকাশে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর ৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান
কাশ্মির অঞ্চলে টহল দেওয়ার সময়
পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান দেখে পালিয়ে গেছে।
বুধবার
(৩০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই
তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন। সংবাদমাধ্যমটি
বলছে, পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তান
উত্তেজনা যখন চরমে, তখন
বুধবার পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পিটিভি নিউজ দাবি করেছে—ভারতীয় যুদ্ধবিমান রাফাল কাশ্মির অঞ্চলে টহল দিতে গিয়ে
পাকিস্তান বিমান বাহিনীর (পিএএফ) প্রতিক্রিয়ায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
পিটিভির
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয়
বিমানবাহিনীর চারটি রাফাল যুদ্ধবিমান কাশ্মিরের ওপর দিয়ে উড়ছিল,
যদিও ওই বিমানগুলো নিয়ন্ত্রণ
রেখা (এলওসি) অতিক্রম করেনি। পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা
হয়, “পাকিস্তান বিমানবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ভারতীয় বিমানগুলো শনাক্ত করে। তাদের প্রস্তুত
প্রতিরক্ষার কারণে ভারতীয় বিমানগুলো একপর্যায়ে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে
বাধ্য হয়।”
এই
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সাংবাদিকদের জানান, “বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে,
পরবর্তী ২৪ থেকে ৩৬
ঘণ্টার মধ্যে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে
সামরিক অভিযান চালাতে পারে।”
এমন
অবস্থায় ভারতের যেকোনও আগ্রাসনের পূর্ণ শক্তি দিয়ে জবাব দেওয়ার
কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেসের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এই হুঁশিয়ারি
দেন।
শেহবাজ
বলেন, “ভারত যদি আগ্রাসী
পদক্ষেপ নেয়, তবে পাকিস্তান
তার সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায়
পূর্ণ শক্তি দিয়ে জবাব দেবে”। এছাড়া ভারত
যদি সত্যিই পাকিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে, সেক্ষেত্রে
নিজেদের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে
ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করবে
পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ
গত সোমবার এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ
করেছেন।
আকাশজমিন/আরআর