সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 131
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
খাদ্য
শস্য ভান্ডার খ্যাত সিরাজগঞ্জের তাড়াশের বোরো ধানের মাঠ যেন সোনালী চাদরে ঢাকা।
সেই সাথে শুরু হয়েছে নতুন ধান কাটা ও মাড়াই উৎসব। নারী ও পুরুষ উভয় কৃষি শ্রমিকেরা
ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে। এক যোগে সকল মাঠের ধান পাকার জন্য
শ্রমিকের কিছুটা কমতি আছে, তাই বাড়ির সবাই এই সকল কাজে হাত লাগাচ্ছে । তাদের
কাছে এটা একটা উৎসব।
তাড়াশ
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি বোরো
মৌসুমে প্রায় ২২ হাজার ৫০২ হেক্টর জমিতে জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধান চাষ করা হয়েছে।
এ বছর আবাদ কৃত ধানের মধ্যে রয়েছে, ব্রি-৯০, সুবললতা, ব্রি-৮৯, ব্রি-২৮, কাটারীভোগসহ
স্থানীন জাত আব্দুল গুটি। সার, ডিজেল, বিদ্যুতের কোন সমস্যা না থাকায় তাড়াশ উপজেলার
কৃষক এ বছর নির্বিঘ্নে বোরো ধানের আবাদ করতে পেরেছেন।
বারুহাস
গ্রামের কৃষক মাসুদ জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ফসলী মাঠে বোরো ধান কাটা ও কৃষকের
বাড়ির উঠানে ধান মাড়াই শুরু হয়েছে। সেই সাথে বাম্পার ফলনও মিলছে। তিনি আরো জানান, বাজারে
কাঁচা ভেজা ধানের দাম বেশ ভালো। হারবেষ্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটলে খর নষ্ট হয়, তাই
তাদের গবাদী পশুর খাদ্যের কথা চিন্তা করে হারবেষ্টার মেশিন দিয়ে ধান না কেটে শ্রমিক
দিয়ে ধান কাটাচ্ছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া ধান কাটকে পারলে, গত বছরের ক্ষতি
পুষিয়ে উঠে লাভবান হতে পারবেন বলেও জানান এই কৃষক।
উপজেলার
কোহিত গ্রামের আরেক কৃষক আক্তার হোসেন জানান, প্রতি বিঘা জমিতে বর্তমানে যে সকল
জাতের ধান কাটা হচ্ছে তা প্রকার ভেদে ২২-২৬ মণ হারে ফলন হচ্ছে। অবশ্য হাইব্রীড সহ কয়েকটি
জাতের ধানের ফলন আরোও বেশি বলে তার দাবী।
মাধাইনগর
ইউনিয়নের ধানকুন্টি গ্রামের কৃষক মতিন জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবছর ধানের
বাম্পার ফলন হচ্ছে, পাশাপাশি দামও ভালো পাচ্ছি। বাড়ির সবাই মাড়াই ও ধান ঘড়ে
তোলার কাজে হাত লাগাচ্ছে। বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা এই ধান ঘরে তুলতে সাহায্য
করছে। সব মিলিয়ে এক উৎসব মুখর পরিবেশ।
শ্রমিক
সংকট মোকাবেলায় স্থানীয় কৃষকেরা পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, সাথিয়া, নাকালিয়া বেড়াসহ
বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকের সাথে যোগাযোগ করছেন।
তাড়াশ
উপজেলার কয়েকটি হাট-বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন
ধান কাটারি, প্রতি মণ ১২৫০ থেকে ১৩৫০ ও মিনিকেট ১০৫০থেকে ১১৫০ টাকা মন বিক্রি হচ্ছে।
তবে নতুন ধান কাটা শুরু হলেও চালের বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই।
এ
প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জানান, ধানের বাম্পার
ফলন ও ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা খুশি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আগামী ১-২ সপ্তাহের মধ্যে
কৃষকেরা আগাম জাতের ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন। আমরা কৃষকদের কে দ্রুত পাঁকা ধান কাটার
জন্য পরামর্শ দিচ্ছি।আশা করছি চলতি বোরো মৌসুমে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লক্ষ্যমাত্রার
চেয়ে অতিরিক্ত খাদ্য শস্য উৎপাদন হবে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া
হচ্ছে।
আকাশজমিন/আরআর
তাড়াশে, শুরু হয়েছে