গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন
এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন ও পরিবহনের দায়ে ১০টি ড্রাম ট্রাক জব্দ ও
৪টি ড্রেজিং মেশিন ও বিপুল সংখ্যক পাইপ ধ্বংস করেছে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার
মোঃ নাহিদুর রহমান।
বুধবার (৭ মে) সকাল ১০ টার দিকে
উপজেলার পশ্চিম উজানচর এলাকায় গোয়ালন্দ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ নিজামের
মালিকানাধীন গোধূলি পার্কে অভিযান চালিয়ে সেখানকার বিশাল জলাশয় হতে বালু উত্তোলনের
দায়ে ৩টি ড্রেজার মেশিনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন এ ৫ টি বালুবাহী ট্রাক জব্দ করেন ইউএনও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোধূলী
পার্কের প্রকল্পের আশপাশের বহু লোকের কৃষি জমি ওই জলাশয়ে ধ্বসে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হয়েছে একাধিকবার মানববন্ধন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত
হয়েছে অনেক সংবাদ। কিন্তু শেখ নিজাম রাজবাড়ীর সাবেক এমপি ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী
কেরামত আলীর একান্ত স্নেহধন্য হবার সুবাদে সেখানে প্রশাসন কখনোই কোন ধরনের অভিযান চালায়নি
বলে স্হানীয়দের অভিযোগ। কাজী কেরামত আলী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,
গত তিনদিনে উপজেলার বিভিন্ন স্হানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে মোট
৪টি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস এবং মাটি ও বালু পরিবহনের দায়ে ১০টি মাটি বহনকারী ড্রাম ট্রাক
জব্দ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাহিদুর রহমান।
এদিকে গত ৬ মে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার
উজানচর ইউনিয়নের মাখন রায়ের পাড়া এলাকায় মরা পদ্মা নদী হতে বালু উত্তোলনের দায়ে শহিদ
নামের এক বালু ব্যবসায়ীর একটি ড্রেজারের ৫০/৬০ টি পাইপ ধ্বংস করে উপজেলা প্রশাসন।
এ বিষয় উপজেলা প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে
সহায়তার অভিযোগ এনে স্হানীয় দুলাল বিশ্বাস নামের এক ব্যাক্তির উপর চড়াও হয়েছেন বালু
ব্যবসায়ী সহিদ ও স্হানীয় ইউপি সদস্য লিপু মন্ডল।
তবে ইউএনও নাহিদুর রহমান জানান,
লিপু মন্ডলের সেখানে একটি সরকারি রাস্তায় বালু ফেলানোর কথা থাকলেও আশপাশের বিভিন্ন
স্হানে বালু ফেলা হচ্ছিল। সেজন্য সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে। দুলাল বিশ্বাস বা এলাকার
অন্য কেউ এ বিষয়ে তাকে কিছু বলেনি। এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ
করা হবে।
ইউএনও আরো জানান, অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে
কৃষি জমি থেকে মাটি উত্তোলন কিংবা নদী ও জলাশয় হতে বালু উত্তোলন বন্ধ করে সড়কে জানমালের
নিরাপত্তা ও ক্ষতিরোধ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান আগেও হয়েছে, এখনো হচ্ছে। ভবিষ্যতেও
চলবে।
অভিযানে আটককৃত মাটিবাহী ড্রাম ট্রাকগুলোর
চালকরা পলাতক রয়েছে। মালিকরা আসলে তাদের কাছ থেকে বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে মোটা
অংকের টাকা জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হবে।
আকাশজমিন/আরআর