ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

সেচের অভাবে পুড়ছে বোরো খেত

টাঙ্গাইলের ৫ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৪ মে, ২০২৫ সময় : ১০:২১ পিএম

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি॥

টাঙ্গাইলে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি থামছেই না। সেচের ভরা মৌসুমে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় অনেক স্কিম বন্ধ রয়েছে। অনেক স্থানে সেচ-সংকটে থোড় বোরো ধান পুড়ে যাচ্ছে। জানা যায়, টাঙ্গাইলের মধুপুর, ধনবাড়ী, ঘাটাইল, গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। তদারকির অভাবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প এখানে জনপ্রিয়তা পায়নি। ফলে সুলভ মূল্যে সৌর বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক।

পবিসের কর্মকর্তারা জানান, টাঙ্গাইলের পাঁচ উপজেলায় যান্ত্রিক সেচের শতকরা ৬৫ ভাগই চলে ন্যাশনাল গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ দিয়ে। চলতি খরায় নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহেও কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎ চালিত সেচে সবচেয়ে দামি যন্ত্রাংশ হলো ট্রান্সফরমার। এর ভেতরে থাকে পিতলের দামি কয়েল। এ কয়েলের লোভে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা চুরি করে ট্রান্সফরমার। বিগত পাঁচ মাসে মধুপুরে ১২টি, ধনবাড়ীতে ২০টি, গোপালপুরে ২১টি, ঘাটাইলে ৩৫টি এবং ভূঞাপুরে চারটি ট্রান্সফরমার চুরি যায়। অনেক স্থানে রাতের বেলা সেচ স্কিমের পাহারাদারকে বেঁধে রেখে ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।

গ্রাহকরা জানান, প্রতি বছরই বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ট্রান্সফরমারের দাম। ৫-২৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের দাম ৪০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারের ভেতরে প্যাঁচানো পিতলের কয়েল ভাঙাড়ির দোকানে বেচে চোরেরা পায় বড়জোর ৫-৬ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে ধনবাড়ী জোনাল অফিসের এজিএম কম মিথুন কুমার রায় জানান, সেচের ট্রান্সফরমার চুরি গেলে গ্রাহককে ক্ষতিপূরণের পুরো টাকা অফিসে জমা দিয়ে নতুন ট্রান্সফরমার নিতে হয়। আবাসিক ও শিল্প গ্রাহকের ট্রান্সফরমার প্রথম বার চুরি গেলে অর্ধেক মূল্য এবং দ্বিতীয় বার চুরি গেলে পুরো টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হয়। অনেক সেচ গ্রাহক অভিযোগ করেন, চুরির টাকা ১০০ ভাগ জমা দেওয়ার পরও সহজে ট্রান্সফরমার মেলে না। ঠিকাদার কিংবা সমিতির কর্মচারীদের পারিতোষিত না দিলে হয়রানি হতে হয়।

গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের উত্তর পাথালিয়া গ্রামের ডগাবিলে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, ২৫ কেভিএ একটি ট্রান্সফরমার এক সপ্তাহে আগে চুরি যাওয়ায় তীব্র সেচ-সংকট দেখা দিয়েছে। এ ট্রান্সফরমারের আওতায় পাঁচ জন সেচ গ্রাহক রয়েছেন। অগভীর নলকূপের মাধ্যমে তারা ২০০ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। গ্রাহক আনোয়ার হোসেন জানান, টানা ৩৫ বছর ধরে বিদ্যুৎ চালিত একটি সেচ মোটর চালান তারা। আগে ট্রান্সফরমার চুরি গেলে অর্ধেক দামে সরবরাহ পেতেন। কিন্তু কয়েক বছর আগে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এ সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার সেচ খাতে ভর্তুকি দেয় শুনেছি। তাহলে ট্রান্সফরমার চুরির ক্ষেত্রে গ্রাহক কেন ভর্তুকি মূল্যের সেই সুযোগ পাচ্ছেন না?

অন্যান্য সেচ গ্রাহকরা জানান, চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত হয়েছে। কিন্তু চুরির কূলকিনারা হয়নি। গোপালপুর জোনাল অফিস চুরি যাওয়া ২৫ কেভিএ ট্রান্সফরমার বাবদ সোয়া লাখ টাকা দাবি করছে। চাষিরা এ টাকা সংগ্রহ করতে পারছেন না। ফলে মিলছে না ট্রান্সফরমার। চালু হচ্ছে না সেচ পাম্প। খরায় থোড় ধান পুড়ছে।

এ বিষয়ে মধুপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম নূরুল আমিন জানান, চুরির পর সামর্থ্যবানরা টাকাপয়সা জমা দিয়ে নতুন ট্রান্সফরমার নিয়ে সেচ চালু করছেন। একটি গভীর নলকূপসহ কয়েকটি অগভীর নলকূপ ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ না করায় বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প বন্ধ রয়েছে।

 

আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর