উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি:
রাজশাহীর
পুঠিয়া উপজেলার গ্রামে তিন বছর আগে আতেকা বেগম (৫০) নামের এক নারীকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য
উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঠুনকো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে
২০২১ সালের ১৩ জুলাই উপজেলার পূর্ব ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের
প্রায় তিন বছর পর গত মঙ্গলবার উত্তম কুমার সরকার (৩৭) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার
করে পিবিআই। পরদিন আদালতে সে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
দেন। গ্রেফতার উত্তম কুমার পূর্ব ধোপাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
এসব তথ্য জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা ও মহানগর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম।
তিনি
জানান, আতেকা বেগম হত্যার পর তার ছেলে আতিকুর রহমান অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে
একটি মামলা করেন। এটি ছিলো ক্লুলেস একটি মামলা। মামলাটি তদন্ত করেন রাজশাহী পিবিআইয়ের
উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান। মনিরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের দুই মাস আগে আতেকার
জমির ওপর দিয়ে ট্রলি চালানোর সময় আতেকা বেগম উত্তমকে গালিগালাজ করেন। তখন থেকেই উত্তম
তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
হত্যার
দিন, ২০২১ সালের ১৩ জুলাই বিকেলে আতেকা বেগম ছাগল চরাতে কারিগরপাড়া মাঠে গেলে সেখানে
তাকে একা পেয়ে উত্তম একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে
মাথায় আঘাত করেন। আতেকা মাটিতে পড়ে গেলে উত্তম আতেকার হাতের হাঁসুয়া ছিনিয়ে
নিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করে। এরপর পালিয়ে যায় সে। পরদিন পুলিশ আতেকার লাশ উদ্ধার
করে। তবে এতদিনেও হত্যাকাণ্ডের কোনো কুলকিনারা পাওয়া যাচ্ছিলো না।
এসপি
মনিরুল ইসলাম জানান, গত ১৩ মে পুঠিয়ার মোল্লাপাড়া গ্রামের একটি ইটভাটা থেকে উত্তম কুমার
সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং পরদিন আদালতে
১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো
হয়।
আকাশজমিন/আরআর