সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 220
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
তীব্র গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আর এই গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে এবং মানুষ তার শরীরের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে তালের শাঁস কিনে খাচ্ছেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশসহ বিভিন্ন যায়গার মানুষ। এজন্য তাল শাঁসের কদর এখন আকাশ চুম্বী। চাহিদার কারণে দামও কিছুটা বেশি তার পরেও সে দিকে তাকাচ্ছেন না ক্লান্ত ও পরিশ্রমী মানুষগুলো।
বেশির ভাগ শ্রমজীবী মানুষের কাছে তালের শাঁসের কদর বেশি। তাড়াশ নিমগাছি আঞ্চলিক সড়কটি তাল সড়ক নামে পরিচিত, কেননা এই সড়কের দুই পাশ দিয়ে তাল গাছের সাড়ি শোভা পাচ্ছে। আর এই তাল গাছ রোপন করেন ততকালিন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীরমুক্তি যোদ্ধা জনাব আব্দুর রহমান(১০২)।
সরেজমিনে দেখা যায় সোমবার (১৯ মে) নিমগাছী-তাড়াশ আঞ্চলিক সড়কের খাদ্য গুদাম মোড়ে দেদারছে বিক্রি করছেন তালের শাঁস। এখানে পাইকারিই বেশী বিক্রি হয়। এখান থেকে কিনে দেশের বিভিন্ন যায়গায় নিয়ে বিক্রি করে।
তালের শাঁস বিক্রেতা পৌর এলাকার উত্তর বাঁধের ঘেলু সামাদ বলেন, (যদিও তার নাম সামাদ তালের শাঁস বিক্রির জন্য তার নাম হয়েছে ঘেলু সামাদ) প্রত্যান্ত গ্রামে ঘুরে কচি তাল আলা গাছ কিনে, সেখান থেকে তাল সংগ্রহ করি। তালের সংখ্যা ও আকার ভেদে একটি গাছের তালের দাম ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত হয়। প্রতি পিচ তাল পাইকারি ৫-৭ টাকায় বিক্রি হয়। খুচরা বিক্রি হয় আকার ভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা। আর খুচরা ও পাইকারি মিলে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার শাঁস তাল বিক্রি হয়।
গুল্টাবাজারে তালের শাঁস বিক্রেতা সাইদুর রহমানের সাথে বলে জানা যায়, এই মৌসুমে প্রায় অর্ধ শতাধিক মৌসুমি শ্রমিক তালের শাঁস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অনেক ক্রেতাই খাচ্ছেন আবার পরিবারের অন্যদের জন্য কিরে নিয়ে যাচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল আজিম জানান, তিনি দিঘীদিন থেকেই তাড়াশ থেকে শাঁস তাল কিনে সিরাজগঞ্জ শহরে বিক্রি করেন। তিনি মুলত গাছ ধরে তাল কেনেন। আকার ভেদে প্রতিটি গাছ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় ক্রয় করেন। ক্রয়কৃত তাল শহরে ৭০০ টাকা শ বিক্রি করেন। আর খুচরা বিক্রি করেন ৭ থেকে ১০ টাকায়।
মিলন নামে এক ক্রেতা বলছেন, মৌসুমি ও সুস্বাদু ফল হওয়ায় এর প্রতি আমাদের আগ্রহের কমতি নেই। তাই প্রতি বছরই তালের শাঁসের কিনে খাওয়ার চেস্টা করি।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এখন বজ্রপাত রোধে বিভিন্ন রাস্তার ধারে ও খালের পাড়ে তালগাছ রোপণ করা হচ্ছে। কৃষি অফিস ও বিভিন্ন সংগঠন আলাদাভাবে তালের গাছ রোপণ করে আসছে। যেহেতু তালশাঁসের প্রায় পুরোটাই পানি তাই এটি পানি শূন্যতা রোধ করে। আবার লিভারের সমস্যাও দুর করতে সাহায্য করে। তালশাঁসে প্রচুর আয়রন থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের গন্ডগোল দূর করতে বেশ কার্যকরী এই তালশাঁস। তবে অবশ্যই খেতে হবে পরিস্কার পরিছন্নভাবে নয়তো ডায়েরিয়ার ঝুঁকি থাকবে।