ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

পাবনায় জনবহুল এলাকায় ময়লার ভাগাড়


  • আপলোড সময় : বুধবার ২১ মে, ২০২৫ সময় : ৬:৫৪ পিএম

কাজী বাবলা, পাবনা :

পাবনা শহরের জনবহুল বাস টার্মিনাল এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্টানের পাশে খোলা মেলা জায়গায় পৌরসভা ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলায় পরিবেশ চরমভাবে দুষিত হয়েছে। অস্বস্থিতে দিন কাটছে স্থানীয় মানুষের। এছাড়া পার্শ্ববর্তী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে মাঝে মাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, পাবনা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পাশে মহেন্দ্রপুর রেলগেট ও পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে উন্মুক্ত স্থানে পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী মহেন্দ্রপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুলে ঢুকে দ্বিতীয় তলায় তৃতীয় শ্রেণির ক্লাসরুমে উঁকি দিতেই চোখে পড়ল, শিক্ষার্থীরা এক হাতে নাক চেপে ধরে রয়েছে ও অন্য হাতে লিখছে। সামনের চেয়ারে বসে শিক্ষিকা। তিনিও ওড়নায় মুখ ঢেকে রয়েছেন। বিদ্যালয়টির প্রায় সব কক্ষেই এ দৃশ্য।

মহেন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, সাধারণ সময়ে তো বটেই, রোদ ও গরমে অবস্থা আরও প্রকট হয়। মাস তিনেক আগে বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী মহাসড়ক ঘেঁষে পৌরসভা বর্জ্য ফেলা শুরু করে। খোলামেলা অবস্থায় এসব আবর্জনা ফেলায় পচা দুর্গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে স্কুলে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বোধ করছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোখলেসুর রহমান রাসেল বলেন, এখানে এতো নিকটে একটি স্কুল রয়েছে, ময়লা ফেলার আগে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত ছিল। হুট করে ময়লা ফেলার কারণে স্কুলের বাচ্চারা ক্লাস করতে পারে না। আমরা শিক্ষকরাও ঠিকভাবে ক্লাস নিতে পারছি না। অনেকেই স্কুল পরিবর্তনও করতে চাচ্ছে।

শিক্ষক সালেহা পারভীন ও রাশেদুল ইসলাম বলেন, ভাগাড়ে প্রচন্ড দুর্গন্ধ হয়। প্রায়শই শিক্ষার্থী পেটের অসুখ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তখন অভিভাবক ডেকে তাদের বাড়ি পাঠানো হয়। দ্রুত এ ময়লার ভাগাড় এখান থেকে সরানো দরকার।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী, তোয়া ও রাব্বির ভাষ্য, দরজা-জানালা বন্ধ করেও নাক চেপে ক্লাস করতে হয়। ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। আমরা এই ময়লার ভাগাড় এখানে চাই না।

এছাড়া এ সড়ক দিয়ে যানবাগন ও পায়ে হেটে চলাচলকারী মানুষ ময়লার দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দুর্গন্ধে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন ও দাস্তান বলেন, এটা জনবহুল এলাকা। ময়লার ভাগাড়ের পাশ দিয়ে তাদের বসতবাড়ি। বাড়িঘরে থাকা সমস্যা হচ্ছে। ঘর-বিছানা ভর্তি মাছি আর মাছি। আশপাশের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, গন্ধে ঠিকমতো খাওয়া দাওয়াও করা যাচ্ছে না। এদিকে  শতাধিক শূকর মাঝে মধ্যে ছেড়ে দেয়া হয়। এরা যখন ময়লা নাড়ে তখন দুর্গন্ধ আরও বাড়ে। এলাকার পরিবেশ চরম অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। 

স্থানীয় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের স্বত্বাধিকারী শাহিন আলম বলেন, গন্ধে তার কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে আসতে চায় না। পৌরসভায় অভিযোগ করেও কোন লাভ হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে পাবনা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. ওবায়েদ উল হক বলেন, আমাদের বর্জ্য ফেলার মূল স্টেশনটি ফকিরপুরে। এটির দুই তৃতীয়াংশ জায়াগায় প্রকল্পের কাজ চলমান। যা দ্রুতই শেষ হবে। বাধ্য হয়ে এখন আমাদের মহেন্দ্রপুরে বর্জ্য ফেলতে হচ্ছে। তবে দুর্গন্ধ কমাতে আমরা নিয়মিত ব্লিচিং দিচ্ছি। সড়কের পাশটাতে টিন দিয়ে আটকেও দিয়েছি। আপাতত আমাদের বিকল্প কোনো পথ নেই। 

আকাশজমিন/আরআর 




এ সম্পর্কিত আরো খবর