ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

সিরাজগঞ্জর নুয়ে পড়া ধান নিয়ে বিপদে কৃষক


সিরাজগ‌ঞ্জের তাড়াশ উপ‌জেলার কুন্দইল গ্রা‌মের মাঠ থে‌কে তোলা ছ‌বি

  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২৩ মে, ২০২৫ সময় : ৯:০৮ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জর তাড়া‌শে নুয়ে পড়া ধান নিয়ে বিপদে কৃষক, শ্রমিকদের দি‌তে হ‌চ্ছে চার ভা‌গের এক ভাগ ধান। টানা বৃষ্টির কারণে বেশির ভাগ জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নিমজ্জিত হয়েছে অ‌নেক ক্ষেত। আর এই নু‌য়ে পরা নিম‌জ্জিত ধান নি‌য়ে কৃষক প‌ড়েছে বিপা‌কে। তিন-চার দিনের মধ্যে ধান না কাটলে এ ধান থেকে চারা গজা‌বে।

কৃষ‌কের ঘ‌রে উঠ‌বে না কিছুই!  এখন জ্যৈষ্ঠ মাসে ধান পাকতে শুরু করেছে। বে‌শির ভাগ এলাকা‌তেই পাকা ধান কাটা শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় কৃষকদের মুখে হাসি থাকার বদলে চিন্তায় পড়েছেন শ্রমে-ঘামে ফলানো সোনার ধান নিয়ে। নু‌য়ে পরার আগে চলনবিলের প্রতি বিঘা ধান কাটতে চার থেকে পাঁচজন শ্রমিক লাগত। দূরত্বভেদে মণপ্রতি ৫ থেকে ৭ কেজি ধান নিতেন। আর টাকায় বিঘা প্রতি ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নিতেন। বর্তমা‌নে নুয়ে পড়া ধান কাট‌তে বিঘা প্রতি ১০ জন শ্রমিক প্রয়োজন হ‌চ্ছে। পারিশ্রমিকও দিতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ।

তাড়াশের মা‌কোড়‌শোন গ্রামের কৃষক শ‌ফি জানান, তি‌নি ১২ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। পাকা ধান কাটতে শুরুও করেছেন কিন্তু বিপত্তি বেধেছে বৃষ্টিতে। বৃ‌ষ্টি ও ঝ‌ড়ো বাতা‌সে পাকা ও আধপাকা ধান ক্ষে‌তে নুয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় জমিতে হারভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কৃষি শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ সু‌যো‌গে শ্রমিকরাও চড়া মজুরি চাইছেন।


জমির ধান কাটতে শ্রমিকরা প্রতি ম‌ণে ১০-১২ কেজি ধান পারিশ্রমিক চাচ্ছেন। ১২ বিঘা জমির ধান কাটতে শ্রমিককে ৩ বিঘার ধান দিতে হবে। অর্থাৎ চার ভা‌গের এক ভাগ ধান শ্রমিক‌দের দি‌তে হ‌বে। এই অবস্থা শুধু আমার না, চলনবিল এলাকার বেশির ভাগ কৃষকই অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে বাধ‌্য হ‌চ্ছেন। লালুয়া মা‌ঝিড়া গ্রা‌মের কৃষক আফসার আলী জানান, সরিষা তোলার পর বোরো আবাদ করায় ধান পাকতেও দেরি হচ্ছে। এর মধ্যে ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। এতে জমির ধান নুয়ে পড়েছে আবার পানি জমে কাদাও হ‌য়ে‌ছে।

এ সুযোগে ধান কাটা শ্রমিকরা পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা দূরত্বভেদে প্রতি মণে ১০-১২ কেজির কমে ধান কাটতে চাচ্ছেন না। যে‌হেতু বিপদ তাই বাধ‌্য হ‌য়েই মোট উৎপাদনের চার ভাগের এক ভাগ ধান দি‌য়েই ধান কাটা‌তে হ‌চ্ছে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বর্তমানে ধানের বাজারদর ভালো। তাই শ্রমিকের পারিশ্রমিক বাবদ একটু বেশি খরচ হলেও কৃষক পুষিয়ে নিতে পারবেন। যে‌হেতু এই সময়টা‌তে ঝড় বৃ‌ষ্টির সম্ভাবনা বে‌শি থা‌কে তাই পাকা ধান দ্রুত কে‌টে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর