সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 140
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের
উল্লাপাড়ায় এক হোটেল কর্মচারী খুনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা
হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। বিষয়টি
নিশ্চিত করেছেন, সিরাজগঞ্জ ডিবির (ওসি) একরামুল হোসাইন।
রবিবার
(২৫ মে) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১) এর বিচারক মো. আলমগীর
হোসেন তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এর আগে শনিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা
হলেন রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের মন্ডলপাড়ার আলম সেখের ছেলে মো. ফিরোজ (২১)
ও সলঙ্গা থানার তারুটিয়া উত্তরপাড়ার শামসুল হকের মেয়ে জুলেখা খাতুন (২১)।
নিহত
হোটেল কর্মচারী আরাফাত খাঁন (৩৫) ফরিদপুরের কোতোয়ালি উপজেলার আলীপুর পাকিস্তানপাড়ার
মোহাম্মদ হানিফের ছেলে। সে সলঙ্গা থানার রাধানগর গ্রামের শাপলা খাতুন নামে এক নারীকে
বিয়ে করে সেখানেই ভাড়া বাসায় থাকতো এবং হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করত।
সিরাজগঞ্জ
ডিবির (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, গত ২৩ মে সকালে হাটিকুমরুল গোলচত্বরের পাশে সওজ অফিসের
পরিত্যক্ত ভবনের পেছন থেকে হোটেল কর্মচারী আরাফাত খানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায়
নিহতের স্ত্রী শাপলা খাতুন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ডিবি পুলিশ মামলার
তদন্ত শুরু করে।
তিনি
আরও বলেন, তদন্ত চলাকালে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শনিবার রাতে প্রথমে আসামি
ফিরোজকে হাটিকুমরুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যমতে জুলেখা খাতুনকে
নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার
বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এরপর সন্ধ্যায়
তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
জবানবন্দিতে
আসামি ফিরোজ জানিয়েছেন, সে আগের একটি চুরির ভাগের ৫ হাজার টাকা আরাফাত খানের কাছে পাওনা
ছিল। এ অবস্থায় ২২ মে রাতে আরাফাত হাটিকুমরুল গোলচত্বরের পাশে সওজ অফিসের পরিত্যক্ত
ভবনের পেছন থেকে পাইপ চুরি করতে যায়। আসামি ফিরোজ আরো দুজন সহযোগীসহ সেখানে উপস্থিত
হয়। যৌনকর্মী জুলেখা খাতুনকে ২ হাজার টাকার চুক্তিতে অনৈতিক কাজের জন্য সেখানে নিয়ে
যাওয়া হয়। এক পর্যায়ে সেখানেই আরাফাতের কাছে পাওনা টাকার জন্য তাগাদা দেয় ফিরোজ। এতে
দুইজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি একপর্যায়ে আরাফাত প্রথমে ফিরোজকে থাপ্পড় দেয়। এতে ক্ষিপ্ত
হয়ে ফিরোজ ও যৌনকর্মী জুলেখা খাতুন মিলে ইট দিয়ে আরাফাতের মাথা ও মুখ থেতলে হত্যা করে।
ঘটনার সময় অন্য দুজন পাশেই পাহারায় ছিল।
আকাশজমিন/আরআর