ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

তা‌লের র‌সের স‌জিবতা দুর ক‌রে ক্লা‌ন্তি ও পা‌নিশূন্যতা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৭ মে, ২০২৫ সময় : ৬:৪৯ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধিঃ

তীব্র গরমে স্বস্তি, পানিশূন্যতা পূরণ ও শরীর সতেজ রাখ‌তে কদর বেড়েছে তালের রসের। তালগাছের সবটুকু উঠতে পারলেও একদম শেষের আড়াই হাত ওঠা সবচেয়ে কষ্টকর। তাইতো বলা হয় 'তালগাছের আড়াই হাত।' কিন্তু কিছু মানুষ জীবিকার তাগিদে দিনে অন্তত দুবার ওই আড়াই হাত জয় করেন। কারণ তা‌দের‌কে গাছে উঠে রসের ভাঁড় নামিয়ে আনতে হয়।

গ্রীষ্মকাল দেখা নেই বৃষ্টির মাঠ ঘাট ফেটে চৌচির একটু পানির জন্য। গরমের তীব্রতায় অতিষ্ঠ জন জীবন। এই গরমে পথে ঘাটে চলাফেরা করা প্রায় দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রচুর গরম থেকে সৃষ্টি হয় পানিশূন্যতা। পানিশূন্যতা পূরণ করে শরীর সতেজ রাখতে প্রয়োজন প্রচুর পানি পান করা। যেসব গাছে তাল ধরে না সে গাছগুলোতে হয় লম্বা লম্বা জট। সেই গাছগুলোকে বলা হয় 'জটা তালগাছ'। এই ধরনের গাছ থেকেই মূলত রস সংগ্রহ করা হয়। তবে যেসব গাছে তাল ধরে সেসব গাছ থেকেও রস সংগ্রহ করা যায়।

চৈত্র মাসের শুরুর দিকে গাছ পরিষ্কার করা হয়। তালগাছ দীর্ঘদেহী হওয়ায় তাতে ওঠার জন্য বাঁশ ব্যবহার করা হয়। জটা গাছের জটের একদম নিচের দিকে একটু অংশ কাটা হয় যেন সেখান থেকে রস বের হতে পারে। আবার যেসব গাছে তালের মোচা বের হয় সেই গাছগুলোর মোচার একদম নিচের অংশ কাটা হয়। তালগাছ কাটতে পাতলা ছোট ধরনের দা ব্যবহার করা হয়। তালগাছের রস সংগ্রহের জন্য যে হাঁড়ি বা ভাঁড় রাখা হয় তা আকারে কিছুটা ছোট। এগুলোর উপরের অংশ বেশ প্রশস্ত। একটি গাছে চারটি বা তার বেশি পাত্র রাখা হয়।

পাত্রগুলোর ভেতরে দেয়া হয় চুন। চুন রস পরিষ্কার করে। কতগুলো জট একসঙ্গে করে পাত্রের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। জট বা মোচাগুলোকে পাতলা কাপড়ে আবৃত করে দেয়া হয় যেন কোনো প্রকার ময়লা পাত্রের মধ্যে ঢুকতে না পারে। প্রতিবারই পাত্র রাখার সময় জট বা মোচার অগ্রভাগ থেকে কিছু অংশ কেটে ফেলা হয়।জাহাঙ্গীরগাতীর গাছিয়া মামুনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সে ৪টি গাছে রস লাগায়ে (২ বারে) প্রতিদিন ২৮ লিটারের মত রস পান। যা হাট বাবাজারে বিক্রি করেন। প্রতি গ্লাস রস বিক্রি হয় ১০ টাকা। প্রতিদিন তিনি প্রায় ১১০-১২০ গ্লাস রস নিয়ে বাজারে যান। গরমের তীব্রতায় অতিষ্ঠ মানুষজন বেশ আগ্রহ নি‌য়েই তা‌লের রস খান। কেউ কেউ ফোন ক‌রে রস নেওয়ার জন‌্য অগ্রীম অর্ডার দেন। সব মি‌লে তা‌লের র‌সের কদর এখন বেশ।

আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর