আজহারুল হক, ময়মনসিংহ / : 865
ময়মনসিংহ ব্যুরো:
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ছিপান গ্রামে মাছ লুটে বাঁধা দেয়ায় মৎস চাষী মো. সালাউদ্দিনের (৪৫) হাত-পা জিআই পাইপ ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সালাউদ্দিনের পুরো শরীরজুড়ে রয়েছে জিআই পাইপের আঘাতে ক্ষত। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করায় হামলাকারী আরও ক্ষিপ্ত হয়ে সালাউদ্দিনসহ তার স্ত্রী সন্তানকে মেরে ফেলবে বলে অব্যাহতভাবে হুমকি দিতে থাকে। এরপর প্রাণভয়ে সালাউদ্দিন বাড়ি ছেড়ে গত তিনদিন ধরে পরিবার নিয়ে গফরগাঁও পৌর এলাকায় আশ্রয় নিয়ছেন।
এদিকে এ ঘটনায় থানায় দায়েরকৃত এজাহারে উঠে আসে মারধরের নির্মম বর্ননা। তাতে উল্লেখ করা হয় গত রবিবার (২৫ মে) সন্ধ্যার পূর্বে সালাউদ্দিন মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন।
ওই সময় সেলিম জাহাঙ্গীরের নির্দেশে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা ছিপান গ্রামের নূর মোহাম্মদ, দুমানি, সাফায়াত উল্লাহ ও সুমন মিয়া সালাউদ্দিনের মোটরসাইকেলের সামনে দাড়ায়। মোটরসাইকেল থামাতেই নূর মোহাম্মদ ও দুমানি সালাউদ্দিনকে ঝাপটে ধরে মাটিতে ফেলে চেপে ধরে। তখন সাফায়াত উল্লাহ রড দিয়ে সজোরে আঘাত করে সালাউদ্দিনের ডান হাত ভেঙ্গে দেয়। একই সময় সুমন মিয়া জিআই পাইপ দিয়ে একাধিক আঘাত করে সালাউদ্দিনের ডান পা ভেঙ্গে ফেলে। পরে চারজন মিলে রড ও জিআই পাইপ দিয়ে সারা শরীরে বেদম পেটায়। এরপর সালাউদ্দিনের মোটরসাইকেল, সাথে থাকা দুই লাখ টাকা ও দুটি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে বীরদর্পে চলে যায়। নির্মম নির্যাতনের শিকার সালাউদ্দিন বলেন, ওরা আমার পুকুর ও মৎস্য মাছ লুট করে। এ সময় বাধা দিলে পিটিয়ে আমার হাত-পা ভেঙে দিয়ে ও সারা শরীর রক্তাক্ত জখম করে চলে যাওয়ার পর আমার পরিবারের লোকজন আমাকে উদ্ধার করে গফরগাঁও সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।
এরপর চিকিৎসকরা জানান, আমার ডান হাতের কনুই সংলগ্ন স্থানটি একেবারে ভেঙ্গে গেছে। আর পায়ের হাটুর ভাটি ভেঙে সরে গেছে। দ্রæত অপারেশন করতে হবে জানিয়ে আমার হাত-পা প্লাস্টার করে দিয়ে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে দেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য বাড়ি চলে আসি। পরে থানায় অভিযোগ দায়েরের পর আসামীরা আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনকে অব্যাহতভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। এ অবস্থায় বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে পৌর এলাকার একটি বাসায় পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। কৃষকদল নেতা সেলিম জাহাঙ্গীরের নির্দেশে আমাকে পিটিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছে ওরা। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে গফরগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুরাদ হাসান বলেন, মারধরের ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
আকাশজমিন/আরআর